ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে স্মার্ট আইডি কার্ডের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল ২০২৫ আইসিটি সেলের পরিচালক এবং স্মার্ট আইডি কার্ড প্রস্তুত কমিটির প্রথম সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের উদ্যোগে এটি বাস্তবায়িত হলে একটিমাত্র কার্ড ব্যবহার করেই হল, লাইব্রেরি, চিকিৎসা কেন্দ্র, ল্যাবরেটরিসহ সব সেবা গ্রহণ সম্ভব হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের ৯ মাস পেরোলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে কার্ড বিতরণ করতে সক্ষম হয়নি কর্তৃপক্ষ। আইডি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুধুমাত্র ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তবে অন্য কোনো শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অন্যান্য সেশনের শিক্ষার্থীরা।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রেদওয়ান আহমেদ রিমন রিমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় পড়াশোনা করছি অথচ আজও আমাদের হাতে কোনো অফিসিয়াল আইডি নেই বিষয়টা বিব্রতকর। একটু-আধটু কাজের জন্যও যখন পরিচয় যাচাই লাগে, তখন সমস্যায় পড়তে হয়। বাসে হাফ ভাড়া নিতে গেলেই নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন দেখি বাইরের লোকজন আইডির অভাবে নিজেদের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে নানা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এর মধ্যে কেবল ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ১৮০০ জন ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ২০০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। সিনিয়র সেশনের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রশাসন এখনো গ্রহণ করেনি। যদি পরিপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসে তাহলে আমরা আইডি কার্ড দিতে পারবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি স্মার্ট আইডি কার্ডের আওতায় আনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আর্থিক অনুমোদন না পেলে তো আমরা কাজ করতে পারবো না।
কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই বিষয়টি আমার মাথায় আছে খুব দ্রুতই আমরা একটি কার্ডের আওতায় সকল শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ সকল শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসবো। আর্থিক কিছু বিষয়ের জন্য একটু দেরি হচ্ছে যদিও আমরা একটি প্রিন্টার কেনার চেষ্টা করছি যেটার মাধ্যমে খুব দ্রুতই সবাই সবার হাতে তার আইডি কার্ড পেয়ে যাবে।