বিশ্ববিদ্যালয়পাড়ার প্রতিদিনের চেনা দৃশ্য—ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের ভিড়, আড্ডা, আর তার সঙ্গে এক কাপ চা কিংবা একটা বার্গার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস শুধু বদলায়নি, বরং আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন চা ও ফাস্ট ফুড শুধু খাবার নয়, বরং একটি সামাজিক অভ্যাস, একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার সম্ভাবনা, এবং অনেক তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্নের ভিত্তি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের আশপাশে গড়ে ওঠা ছোট ছোট দোকানগুলোতে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, পথচারী, এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীরাও ভিড় করেন। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা আড্ডার মাঝে এক কাপ চা আর হালকা কিছু খাওয়ার চাহিদা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই চাহিদাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এক ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক পরিবেশ, যা একদিকে যেমন লাভজনক, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে।
এই বিষয়ে সরেজমিনে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন গেটের বিপরীতে অবস্থিত ‘চায়ের আড্ডা’ নামের একটি দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, “এই দোকান ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের মূলত ব্যবসা চায়ের, তবে এখন পেটিস, কেক, বার্গার, রোলও বিক্রি করি। এখানে দুই ধরনের চা পাওয়া যায়—দুধ চা ১০ টাকা, আর লাল চা ৫ টাকা। বার্গারের দাম ৪০ টাকা। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কাপ চা বিক্রি হয়। সব সময় দোকান লোকজনে ভরপুর থাকে।”
এই ধরনের দোকানগুলো সাধারণত ছোট পরিসরে পরিচালিত হলেও প্রতিদিনের বিক্রির পরিমাণ কম নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য দামও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। বিকেলের দিকে এসব দোকানে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউবা হাঁটতে হাঁটতে খাবার খেয়ে নিচ্ছেন—চেনা দৃশ্য।
তবে ব্যবসার এই জনপ্রিয়তার পেছনে যেমন সুযোগ আছে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, একই এলাকায় একাধিক দোকান থাকায় মান বজায় না রাখতে পারলে ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া, বৃষ্টির দিনে বিক্রি কমে যাওয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সীমাবদ্ধতা, এবং পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবও ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
তবুও, সঠিক পরিকল্পনা, পরিষ্কার পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত উপাদান ব্যবহার, এবং ভালো আচরণ নিশ্চিত করতে পারলে এই ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে। অনেক তরুণ এখন এই খাতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিমুক্ত এবং দ্রুত আয় করার সুযোগ দেয়।
সবশেষে বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়পাড়ায় চা ও ফাস্ট ফুডের জনপ্রিয়তা শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র ব্যবসার বড় সম্ভাবনা, যা একদিকে যেমন উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন গড়তে সাহায্য করছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে সহজলভ্যতা ও স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
ইশরাত জাহান মনি / টিএইচএস