জাবিতে ‘তরী’র উষ্ণতার ছোঁয়া, হাসি ফুটল শতাধিক শিশুর মুখে

Site Favicon প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:২৩
A+A-
Reset

মাঘের হাড়কাঁপানো শীত। চারদিকে যখন কুয়াশার চাদর, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন ‘তরী’ চত্বরে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। একদল শিক্ষার্থীর ভালোবাসা আর উষ্ণতার পরশে হাসিমুখে বাড়ি ফিরল শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু।

​শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তরী’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি। প্রতি বছরের মতো এবারও অসহায় শিশুদের হাড়কাঁপানো শীতের কষ্ট লাঘবে পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি।

​শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। শিশুদের হাতে পরম মমতায় কম্বল তুলে দিয়ে তিনি বলেন, “এই তীব্র শীতে শিশুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তরীর পাশাপাশি সাউথব্রিজ হাউজিং লিমিটেড যে উদারতা দেখিয়েছে তা প্রশংসনীয়। আমার বিশ্বাস, যারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ছিন্নমূল শিশুদের জন্য কিছু করতে চায়, ‘তরী’ তাদের জন্য একটি বড় আশ্রয়স্থল।”

​অনুষ্ঠানে জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “তহবিলের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সদিচ্ছার অভাব নেই। আমরা চেষ্টা করছি স্পন্সরশিপের মাধ্যমে জাকসুর পক্ষ থেকেও খুব দ্রুত এসব শিশুদের পাশে দাঁড়াতে।”

​নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে তরীর সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু এই শিশুদের পাঠদানই করি না, তাদের প্রতিটি প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আজ শিশুদের মুখে যে হাসিটুকু দেখেছি, এটাই আমাদের সংগঠনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। আমরা চাই ক্যাম্পাসের অন্যান্য সংগঠনগুলোও এভাবে মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হোক।”

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাকসুর পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. সাফায়েত মীর, তরীর সাধারণ সম্পাদক সেজানুর রহমানসহ সংগঠনের একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।

​উল্লেখ্য, ‘আলোর পথে আমরা’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০০৮ সাল থেকে ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ‘তরী’। একদল স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর হাত ধরে শুরু হওয়া এই সংগঠনটি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার পছন্দ হতে পারে