হামলায় জড়িত জাবি শিক্ষকদের বিচারকার্য নিয়ে প্রশাসনের টালবাহানা

Site Favicon প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:২০
A+A-
Reset

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়া অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারকাজ এখনও শেষ হয়নি। ঘটনার পর ১৪ মাস কেটে গেলেও বিচারকাজে অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের নেতারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিচার শেষ করে স্থায়ী বহিষ্কার কিংবা কারও সনদ বাতিল করা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারকাজ নিয়ে প্রশাসন গড়িমসি করছে। এভাবে এক সময় শিক্ষকদের বিচারকার্য থেমে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৪ জুলাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে, ১৫ জুলাই তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে ও সেদিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ২৮৯ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ১৭ মার্চ সিন্ডিকেট সভা থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় ৯ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়। তবে এসব কমিটি গঠনের আট মাস পরও এসব কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েনি। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়েও বিচারকাজ সম্পন্ন না করার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মদদ দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৯ শিক্ষককে অভিযুক্ত করে। তাঁরা সবাই অতীতে আওয়ামীপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, সাবেক প্রক্টর আলমগীর কবির, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ রঙ্গন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন বশির আহমেদ, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদার ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদার।

এ ছাড়া হামলার ঘটনায় আরও ১০ শিক্ষকের সংশ্লিষ্টতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা হলেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেন, আইবিএর অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার ও অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবাল এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘১৯ শিক্ষক মানে ১৯টি কমিটি। সব সভা একসঙ্গে করা যায় না। আলাদা করে করতে হয়। শিক্ষার্থীদের বিচার আমরা করেছি, শিক্ষকদের বিচারও করব। আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই বিচার শেষ করার আশা করছি।’

আপনার পছন্দ হতে পারে