খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ উদযাপিত হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশে। সকাল থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা ও নানা আয়োজন।
১৯৮৭ সালে সরকারি গেজেটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসে এবং ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর মাত্র ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া সেই কার্যক্রম আজ ৭,৫০০ শিক্ষার্থীর বড় ক্যাম্পাসে রূপ নিয়েছে।
দেশের একমাত্র সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যেখানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে শান্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ক্যাম্পাসই এখন শিক্ষার্থীদের বড় শক্তি।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৮টি স্কুল, ১টি ইনস্টিটিউট ও ২৯টি ডিসিপ্লিন। জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, আরবান প্ল্যানিং, মেরিন রিসোর্স, ব্যবসায় শিক্ষা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিভিন্ন খাতে এখানকার গবেষণা এখন জাতীয় নীতি আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সকাল ১০টায় শোভাযাত্রা দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ১১টায় লিয়াকত আলী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। কৃতী শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
‘উদ্যম বাংলা’ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রদর্শনী সাজানো হয়। বাদ জোহর ক্যাম্পাসের মসজিদ ও মন্দিরে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যায় মুক্তমঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্থাপনাতেই থাকে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা।
উপাচার্য ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “৩৫ বছরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় সুনাম অর্জন করেছে। রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ এবং গবেষণানির্ভর শিক্ষা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিন তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও প্রতীক।