৪৭ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে প্রায় ৫ ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থী। দুই দফায় ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে চলা এই অবরোধের ফলে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পথচারীরা।
আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুইলেন আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এরপর ২টা ৫ মিনিটে অবরোধ তুলে আবার ২ টা ২৫ মিনিট অবরোধ শুরু করেন। এরপর বিকেলে ৪ টা ২০ মিনিটে আবার ১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে পুনরায় অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কের দুইপার্শে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সেসহ জরুরি পরিষেবার যানবাহনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পথচারীরা। নবীনগরের বাসিন্দা আলহাজ্ব সাবেরুল আলম বলেন, প্রায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্লক করে রাখে। সাধারণ নাগরিকের জীবনের কোনো দাম নেই। মন চাইলো আর রাস্তা আটকায় দিলাম। এভাবে একটা দেশ চলতে পারেনা।
আরেক পথচারী খুরশিদা জাহান বলেন, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে এভাবে জ্যামে বসে আছি। হেটে যাব তারও উপায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি জনদুর্ভোগ না বুঝে তাহলে আমরা কোথায় যাব?
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বরিউল আলম বলেন, গত একমাস যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাড়াহুড়া করে পিএসসি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে সে প্রতিবাদে আমরা গত একমাস যাবৎ পিএসসিকে স্মারকলিপি প্রেরণ, পিএসসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি, শাহাবাগ ব্লকের সাথে সমন্বয় করে সারা দেশে আমাদের আন্দোলন চলমান রেখেছি। কিন্তু পিএসসির নির্দেশে আমাদের স্টুডেন্টদের ওপর তারা পুলিশি হামলা, নির্যাতন করে। সেই প্রতিবাদে আমাদের স্টুডেন্টরা গত তিনদিন ধরে আমরণ অনশন করছে। কিন্তু এর মধ্যেও তাদের কোনো মাথা ব্যথায় আসছে না, তারা কোনো বিবেচনা করছে না। তারা স্বৈরাচারী একটা সিদ্ধান্ত সবার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা মনে করছি এই আন্দোলন শুধুমাত্র ৪৭ তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির জন্য না, এই ন্যায্য দাবি যদি আজকে তারা মেনে না নিয়ে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় সামনে ভবিষ্যতে একের পর এক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত তারা চাপিয়ে দিবে।