পাবনায় রাতের আঁধারে ডাকাতি, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

Site Favicon প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৫০
A+A-
Reset

পাবনার বেড়া উপজেলার যমুনাপাড়ের নাকালিয়া বাজারে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি বড় স্পিডবোটে করে আসা ডাকাতদল বাজারের চারটি দোকানে ডাকাতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরোনো কায়দায় বাজারের পাহারাদারদের বেঁধে জুয়েলারি, কাপড় ও মুদি দোকান থেকে মালামাল লুট করে ডাকাতরা নদীপথে পালিয়ে গেছে বলে জানা যায়।

দোকান মালিকদের হিসাব অনুযায়ী, লুটের পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এর আগে একই ধরনের ডাকাতি ২০১৪ ও ২০১৭ সালেও ঘটে- তখনও স্পিডবোটে করে এসে রাতের বেলায় বাজারে হামলা করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি বড় স্পিডবোট নাকালিয়া নৌঘাটে ভিড়ে। ঘাটে নামামাত্র ডাকাতরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে পাহারাদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাটে থাকা দুজন নাইটগার্ড ও দুজন খর ব্যবসায়ীর ওপর। চারজনকেই হাত-পা বেঁধে রেখে তাদের মুঠোফোন ও অন্যান্য জিনিস কেড়ে নেয়।

ঘাট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ডাকাতদল কয়েক ভাগে ছড়িয়ে পড়ে বাজারে। তারা প্রথমেই স্বপন কর্মকারের লোকনাথ শিল্পালয় এবং অলোক শীলের অসীম জুয়েলার্স-এর তালা ভাঙে। এরপর আব্দুল্লাহর কাপড়ের দোকান ও বাসুদেবের মুদিখানাতে ঢুকে মালামাল লুট করে তারা।

ডাকাতির শিকার জুয়েলারি ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, আমার দোকানে প্রায় ২০০ ভরি রূপা, দুই ভরি সোনা আর ২৫ হাজার টাকার মতো নগদ ছিল। সব নিয়ে গেছে। সাত লাখ টাকার মতো ক্ষতি হলো। পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলাম।
মুদিখানা দোকানের মালিকের ভাই কার্তিক বলেন, ২০১৭ সালেও একইভাবে স্পিডবোটে এসে ডাকাতি হয়েছিল। এবারও ঠিক সেই একই কৌশলে ডাকাতি করলো ডাকাতরা। দোকানের তালা ভেঙে দুই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৪ সালের ২ মার্চ, ২০১৭ সালের ৫ মার্চ একইভাবে স্পিডবোটে করে এসে নাকালিয়া বাজারে ডাকাতি হয়েছিল। প্রতিবারই ১৫-২০ জনের দল রাতের অন্ধকারে হামলা চালায়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, আগের ডাকাতির ঘটনায় কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি, কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ। ফলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় ডাকাতরা আবারও একই কায়দায় হামলা চালাতে সাহস পাচ্ছে।
নাকালিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, এই বাজার নদীর ধারে হওয়ায় ডাকাতরা খুব সহজে আসে ও চলে যায়। আগের ডাকাতির পর থেকে আমরা একটি পুলিশ ফাঁড়ির দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আবারও বাজারে ডাকাতি হলো।

বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, আগের ঘটনার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। তবে এবারের ডাকাতদলকে ধরতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি উর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলে নাকালিয়া বাজারে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে একই বাজারে বারবার একই কৌশলে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের আশঙ্কা- যদি দ্রুত পুলিশি টহল বাড়ানো ও ফাঁড়ি স্থাপন না করা হয়, নাকালিয়া বাজার আবারও ডাকাতদের টার্গেটে পরিণত হবে।

আপনার পছন্দ হতে পারে