জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ৬ টি আবাসিক হলে নির্মাণের শুরু থেকেই একেরপর এক অনিয়ম ও অভিযোগ উঠেছে। গতকাল অনুভূত ভূমিকম্পে ফের আলোচনায় এসেছে এই ৬ টি হলের নির্মাণ কাজ। ভূমিকম্পে চারটি হলেই ফাটল দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর ১৪৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের অধীনে এক হাজার আসনের ১০ তলাবিশিষ্ট ছেলেদের ৩টি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, ২১ নম্বর ছাত্র হল ও মেয়েদের ৩টি হল ফজিলন্নেসা হল, রোকেয়া হল ও বীর প্রতীক তারামন বিবি হল নির্মিত হয়।
প্রকল্পের ডিপিপি ঘেঁটে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়েদের জন্য ৬টি ১০ তলা বিশিষ্ট আবাসিক হলের ফাউন্ডেশন হবে পাইল ফাউন্ডেশন পদ্ধতিতে। তবে নির্মাণের সময় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। পাইল ফাউন্ডেশনের বিপরীতে ম্যাট ফাউন্ডেশনে নির্মাণ করা হয় ছয়টি হল।
ডিপিপি অনুযায়ী, হলগুলোর প্রতিটি দুই হাজার ২২৫ বর্গমিটার ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মাণ করা হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, পাইল ফাউন্ডেশনে প্রতি বর্গমিটারের খরচ ধরা হয় ৪০ হাজার ৫৩৩ টাকা। আর ম্যাট ফাউন্ডেশনে ২৮ হাজার ৭৫২ টাকা। অর্থাৎ, পাইল ফাউন্ডেশন অনুযায়ী প্রতিটি হলের জন্য এতে মোট খরচ হওয়ার কথা ৯ কোটি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে ম্যাট ফাউন্ডেশন অনুযায়ী কাজ করলে খরচ হবে ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
এর ফলে প্রতিটি হলের ফাউন্ডেশনেই ২ কোটি ৬২ লাখ ১৩ হাজার করে ৬টি হলে প্রায় ১৬ কোটি টাকা কম খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু এ টাকার কোনো হদিস মেলেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের শিডিউলে। যদিও হল নির্মাণের বরাদ্দের পুরোটাই ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কনসালটেন্সি ফার্ম সয়েল টেস্ট করে দেখে মাটির অবস্থা বোঝার চেষ্টা করে। সয়েল টেস্ট রিপোর্ট তাকে গাইড করে এখানে কোন ধরনের ফাউন্ডেশন প্রয়োজন। সেখানে তারা দেখে এখানে ম্যাট ফাউন্ডেশন দিলেই হবে।’
নাসির উদ্দীন বলেন, এখনো এই কাজগুলোর বিল পেমেন্ট হয়নি। পার্টিকুলার কাজের বিপরীতে যেহেতু বিল পেমেন্ট হয়নি, সেহেতু কী করা হয়েছিল আর কী করা হয়নি এবং বিল থেকে যতটুকু হয়েছে ও তার বিপরীতে কত পেমেন্ট হয়েছে তা এককভাবে বলার সুযোগ নেই। এখানে তদারকি কমিটি আছে। তদারকি কমিটি এগুলো দেখে এবং সুপারিশ করে।