ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের খসড়ার পুনর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জন চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবে’ বিভ্রান্ত হওয়া বা পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন।
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে মহানগরের সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন করে ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে খসড়া অধ্যাদেশটি প্রকাশ করে অংশীজন ও সর্বসাধারণের মতামত আহ্বান করা হয়। এরপর পাঁচ হাজারেরও বেশি মতামত পাওয়া যায়। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনটি মতবিনিময় সভাও হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রাপ্ত প্রতিটি মতামত আইনগত ও বাস্তবতার নিরীখে গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করছে। অনলাইনে প্রাপ্ত ও প্রত্যক্ষ মতামত পর্যালোচনা করে খসড়াটি পুনর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জন কাজ শুরু হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করাসহ সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। প্রস্তুতির সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারবাহিকতা কোনভাবেই যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সচেতন ও সক্রিয়। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন প্রশাসন, সাত কলেজের অধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউজিসির অংশগ্রহণে ১১ নভেম্বর সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৩ নভেম্বর।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ব্যাপকতা এবং সাত কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদ সংরক্ষণ, কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সমন্বয়ের জটিলতা বিবেচনায় বস্তুনিষ্ঠভাবে এবং বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করে অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হলেও এর মাধ্যমে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আরও বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনির্ভাসিটি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমকে দেশের উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে। ব্যক্তিগত ধারণা, অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি বা পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না করে সকলে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন— মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এমনটিই প্রত্যাশা করে।