শেখ হাসিনার রায় প্রত্যাখান করে বিবৃতি দেয়া ১০০১ শিক্ষকের তালিকায় ববির তিন শিক্ষক

Site Favicon প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৪৭
A+A-
Reset

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় প্রত্যাখান করে বিবৃতি দেয়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ শিক্ষকের তালিকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) তিন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের নাম পাওয়া গেছে। তবে ঐ তিন শিক্ষক বলছেন তারা এই বিবৃতির কিছুই জানে না এবং কীভাবে তাদের নাম আসছে সে বিষয়ে তারা অবগত নন। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ তিন শিক্ষক হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান, মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইউম ও ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবু জাফর মিয়া।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ  হাসিনার ফাঁসির রায় প্রত্যাখান করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ শিক্ষকের দেয়া বিবৃতির ঐ তালিকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন শিক্ষকের নাম রয়েছে।

বিবৃতির বিষয়ে আবু জাফর মিয়া বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, এ বিষয়ে আমার কোনো সম্মতি নেয়া হয়নি । আমি কোথাও নাম দেয়নি।

এই বিবৃতিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের নাম আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিচার না হওয়ায় তারা একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে যাচ্ছে। ফ্যাস্টিটের দোসর এসব শিক্ষকদের অতিদ্রুত বিচার করার দাবিও জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা গণমাধ্যম ঐ তিন শিক্ষকের স্পষ্ট বিবৃতি দিতে হবে যে তারা এই বিবৃতির বিষয়ে অবগত নন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক রাকিব আহমেদ বলেন, বিবৃতিতে নাম আসা এই তিন শিক্ষককে অবশ্যই আগামীকালকের মধ্য গণমাধ্যমে স্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে জানাতে হবে যে তারা এই বিবৃতির বিষয়ে আবগত নন। অন্যথায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবে।

নাম থাকা ঐ তিন শিক্ষকই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী শিক্ষক রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। এরমধ্য আবদুল কাইউম গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৩ আগস্ট ২০২৪  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত এক অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নিয়ে আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেন। আন্দোলনের সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ছিলেন। এসময় তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপরে ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা করানো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে হয়রানি করিয়েছেন। আওয়ামীপন্থী এই শিক্ষক নৌকার নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির সদস্য ছিলেন অংশ নিতেন নির্বাচনী প্রচারণায়ও।

লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহানও আওয়ামীপন্থী রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট ছিলেন সেই সময়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেয়াসহ নানা ধরনের হয়রানি করেন। জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ৩ আগস্ট এক অনলাইন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে বলেন, শেখ হাসিনাতেই আমাদের আস্থা। আরেক শিক্ষক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু জাফর মিয়া তিনিও আওয়ামিলীগের নৌকার প্রচারণা কমিটির সদস্য ছিলেন। আওয়ামিলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে একাধিকবার শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক  ড. মো: আব্দুল কাইউম বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। কোথায় দিয়েছে ? আমি এখনো দেখেনি।

লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাকে জিজ্ঞেস করাও হয়নি। তার সাথে কেউ এ বিষয়ে কখনো যোগাযোগও করেনি।

আপনার পছন্দ হতে পারে