বিবৃতিতে নাম থাকা জাবি শিক্ষকরা রাতের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট না করলে কঠোর ব্যবস্থার হুশিয়ারি

শেখ হাসিনার রায় প্রত্যাখ্যান

Site Favicon প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২২ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪১
A+A-
Reset

জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার দায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ১০০১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেওয়া বিবৃতিতে নাম থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সোমবার রাতের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আহবান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার ওই বিবৃতির খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
যদি ওই বিবৃতি শিক্ষকদের সম্মতিতে হয়ে থাকে তাহলে কঠোর আন্দোলন এবং তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কটের হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন জাকসুর নেতা-কর্মীরাও।

এ বিষয়ে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব ইনসাইট ঢাকাকে বলেন, ‘এই বিবৃতির মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে তারা গনহত্যাকারী শেখ হাসিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণহত্যাকারীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া সুস্পষ্টভাবে একটি অপরাধ। এরকম অপরাধী যারা, তারা যদি তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করে, তাহলে তাদেরকে জাহাজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিকভাবে বয়কট করবে।’

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম ইনসাইট ঢাকাকে বলেন, যারা গনহত্যাকারীকে সমর্থন করে, বিবৃতির মাধ্যমে এই জায়গায় তাদের মৌন এবং প্রত্যক্ষ সমর্থন জানাচ্ছেন তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কিংবা শিক্ষার্থীদের সার্বিক সামাজিক অবস্থা সবকিছুর জন্য হুমকি। উনাদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আহবান জানাচ্ছি। তাদের ব্যাপারে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একইসাথে এখানে এমন অনেক শিক্ষক রয়েছেন, যারা জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি হামলায় জড়িত। উনাদেরও দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য বিষয়টিকে বিবেচনা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার দায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে ১০০১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিবৃতি দেওয়ার খবর ছড়িয়েছে। ওই সব সংবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েরও কয়েকজন আওয়ামীপন্থী ও জুলাই আন্দোলনে হামলায় মদদ দেওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম রয়েছে।

আজ সোমবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাহান্ননিউজ ডট কম এবং বিডিটুডে নামক পোর্টালে সংবাদটি প্রচার হয়েছে। ওই সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে জাবি শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনের নাম রয়েছে। তবে এই বিবৃতির বিষয়ে অনেকে জানেন না বলে নিশ্চিত করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।

এক ফেসবুক পোস্টে বিবৃতিতে নাম থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী লেখেন, সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশিত ১ হাজার অধ্যাপকের একটি বিবৃতিতে আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে, যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে আমাদের কোনো অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই এই বিবৃতিতে আমাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিটির বিষয়ে অবহিতও করা হয়নি। তাই উক্ত বিবৃতিতে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্তকরণ সম্পূর্ণ অননুমোদিত।’

আরেক অধ্যাপক সুলতানা আক্তার বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে একটি রায় প্রত্যাখ্যান করে ১ হাজার অধ্যাপক স্বাক্ষর দিয়েছেন, যেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে আমার কোনো অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই এই বিবৃতিতে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিটির বিষয়ে আমাকে আগে কোনোভাবে অবহিতও করা হয়নি। তাই উক্ত বিবৃতিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্তকরণ সম্পূর্ণ অননুমোদিত। আমি এ ধরনের প্রচেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ফজলুল হালিম রানা লেখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আমার কর্মস্থল। আমি আমার কর্মস্থলে কোন প্রকার শিক্ষক রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একটি বিবৃতি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেখানে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে আমি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে আমার কোনো অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই এই বিবৃতিতে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিটির বিষয়ে আমাকে  অবহিতও করা হয়নি। কাজেই উক্ত বিবৃতিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্তকরণ সম্পূর্ণ অননুমোদিত। এ বিষয়ে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীদের বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

আপনার পছন্দ হতে পারে