ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে পুরো রাত উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর প্রতিবাদে ফেসবুক পোস্টের জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।
আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর বরাবর উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে লিখিত অভিযোগ করে।
অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান বলেন, ” গত ১৩ নভেম্বর সাদ্দাম হোসেন হলেন সামনে কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা উচ্চ স্বরে মাইকিং বাজিয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনা করে। এতে আবাসিক হলেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। পরবর্তীতে আমি একটি ফেইসবুক পোস্টে মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাই। এতে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা সন্ধা ৫ টায় অতর্কিত হামলা করে। আমি এই হামলার উপযুক্ত শাস্তি চাই।”
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “আমি মাহফুজুর রহমানের অভিযোগ পত্রটি পেয়েছি। আমি, প্রক্টরিয়াল বডি, ছত্র উপদেষ্টা আগামীকাল এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো।”
ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আগামীকাল প্রক্টরিয়াল বডি সহ আলোচনা করা হবে, প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করে উভয় পক্ষের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে দোষীর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর সাদ্দাম হল সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি’র সামনে রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কিছু শিক্ষার্থী সাউন্ডবক্সে উচ্চ শব্দে গান বাজাতে থাকে। পরে একই হলের সামনে কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে রাতভর উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে ক্রিকেট খেলে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এতে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান ভোররাতের দিকে উচ্চ শব্দ করা ক্রিকেট খেলোয়াড়দের গালি দিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন। ফজরের নামাজের সময় হল থেকে বের হলে মাহফুজের সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের বাকবিতন্ডা হয়।
পরে ক্রিকেট খেলোয়াড়রা তাকে ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করার অনুরোধ করলে ভুক্তভোগী মাহফুজ সকালে পোস্টটি ডিলিট করেন। পরে বিকেলে মাগরিবের নামাজের আগে মাহফুজকে একা পেয়ে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অন্তত ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তিনি মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।