আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানার তৃণমূল পর্যায়ে তুমুল জনপ্রিয়তা থাকার পরও সংগঠনটির একটি অংশ ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের আবেদন করেছেন।
তৃণমূলের সাবিরা সুলতানার তুমুল জনপ্রিয়তা থাকার পরও প্রার্থীতা পুনর্বিবেচনার আবেদন ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন দলের নেতা-কর্মীদের একটি বৃহৎ অংশ।
গত ১০ নভেম্বর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা যশোর-২ আসনের প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছেন। একই দাবিতে পৃথকভাবে আবেদন করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুন, যিনি নিজেও ওই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
যশোরের একটি অনলাইন গণমাধ্যমে আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা ২৭ জন নেতার স্বাক্ষরিত আবেদন জমা দিয়েছি। ঘোষিত প্রার্থীর সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। গত ১৭ বছর তিনি কারও খোঁজ নেননি, মামলা বা আন্দোলনের সময় পাশে ছিলেন না। এমন প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কর্মীদের নামানো কঠিন।”
তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নাজমুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী সাবিরা সুলতানা মুন্নী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রার্থী মুসা মাহমুদকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন সাবিরা সুলতানা। উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে ঝিকরগাছা-চৌগাছা উপজেলার ২২ টি ইউনিয়নেই সাবিরা নাজমুল ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি কারাবরণও করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে সাবিরা সুলতানার এতো জনপ্রিয়তা থাকার পরও একটি মহল তার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় হতাশ তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আল-আমিন ইউসুফ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ২০১১ সালে শহীদ নাজমুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর এই আসনে বিএনপির হাল ধরেন সাবিরা সুলতানা মুন্নী ভাবি। তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে ব্যাপক জনসংযোগ করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। যার প্রেক্ষিতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সময় তিনি নির্যাতনের শিকারও হয়েছিলেন। বিএনপির দুঃসময়ে উনি ছিলেন আমাদের তৃণমূল বিএনপির অভিভাবক। তার জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগ বিবেচনে করে দল থাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তারপরও একটি অংশ যদি তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেন সেটা খুবই হতাশাজনক।
প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাদেশে প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেন। ওই তালিকায় যশোর-২ আসনে প্রার্থী হন সাবিরা সুলতানা। যিনি জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ সম্পাদক ও প্রয়াত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।