জাবি শিক্ষক নাহরিনের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতার মানহানি মামলা

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:১৫ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৩
A+A-
Reset

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতে এ মামলা করেন তিনি। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আইনজীবী আবু তালেব আকন্দ  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি মামলার বরাত দিয়ে বলেন, গত ২৫ অক্টোবর বেসরকারি একটি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে ড. নাহরিন ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করে মিথ্যা, ‘বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। ড. নাহরিন ইসলাম খান ওই বক্তব্যে বলেন, ‘‘সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলে তাদের স্ত্রীদের প্রতি জামায়াতের হক রয়েছে।’’ ওই বক্তব্যে তিনি দর্শকদের বুঝিয়েছেন, জামায়াতের লোকেরা নারী লোভী।’

বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে৷ এই বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ দাবি করে এতে অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামের সম্মানহানি হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর বিবিসি নিউজ বাংলায় প্রকাশিত জামায়াত নেতা অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক হয়ত ভোটদান থেকে বিরত থাকতে পারে। আর অধিকাংশ লোক ভোটটা আমাদের (জামায়াত) দেবে, যাতে তারা নিরাপদে থাকতে পারেন। ৫ আগস্টের পরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে আমাদের দ্বারা কেউ এই হয়রানির শিকার হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে সাধারণ ভোটার ও সাপোর্টার ভোটার যারা আছেন, এরা আমাদের দ্বারা যেহেতু হয়রানির শিকার হয়নি, সেহেতু আমাদের ধারণা তাদের ভোটটা আমাদের দিকেই আসবে ইনশাআল্লাহ।’

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, জাবি শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আমার ব্যক্তিগত মর্যাদা ও জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি।

যা বলছেন ওই অধ্যাপক:

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান ইনসাইট ঢাকাকে বলেন, আমার কাছে অফিসিয়ালভাবে কোনো কিছু এখনো আসেনি। জুলাই আন্দোলনের পরে কেউ কোনো কথা বলেছে সেটা নিয়ে যে কেইস করতে পারে, সেটাই আমার ধারণায় ছিলো না। আমি টকশোতে বলার দুই সপ্তাহ আগে যখন একটা কথা ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, তখন আমার কাছে তো কোনো উপায় নেই যে এটা এআই দিয়ে বানিয়েছে নাকি এটা মিস ইনফরমেশন। এটাকে কন্ট্রোল করতে হবে সরকারের যে কোনো মিস ইনফরমেশন ছড়িয়েছে কিনা, সরকারের তথ্য কমিশনের দায়িত্ব এটা দেখার।

তিনি আরও বলেন, আমি একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে যেটা দেখেছি সেটা বলেছি কিংবা আমার বক্তব্যে সেটা রেফার করেছি। আমার রেফারেন্সে একটা নিউজকে ইউজ করেছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এটাও কোনো ইস্যু না। ইস্যুটা তৈরি হয়েছে জাকসু ইলেকশনে আই ওয়াজ দা ফার্স্ট পারসন যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে ইলেকশন থেকে বের হয়ে এসেছি। দ্যাট ওয়াজ দ্য টাইম, আমি তাদের টার্গেট ছিলাম। তারা যেহেতু আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধরতে পারে নাই এবং আমি যেহেতু নারী আরও একটা বিষয় হচ্ছে আমি তো এটা ছড়াই নাই। এটা যে ছড়িয়েছে তার বিরুদ্ধে সে মামলা করবে কিংবা ফেইসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করবে। কিন্তু আমি কেনো? তারা ফেইসবুকের এগেইনস্টেও করতে পারবেনা কারণ তারা পাওয়ারফুল আবার অন্য কারও এগেইন্সটে করতে পারবেনা কারণ তারা পুরষ। তাই আমাকে করেছে কারণ নারী হচ্ছে সোসাইটির সবচেয়ে সফট টার্গেট।

 

আপনার পছন্দ হতে পারে