জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অটোরিকশার ধাক্কায় ৫৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচির মৃত্যুর পর আন্দোলনের মুখে বন্ধ করা হয়েছিলো অটোরিকশা। আবারও সেই অটোরিকশা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এক্ষেত্রে ১৫ টি শর্ত নিশ্চিতের পরই অটোরিকশা চলবে বলে জানা গেছে।
গত ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় অটোরিকশা চালুর নানা দিক আলোচনা শেষে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মালিকানাধীন কোনো অটোরিকশাকে ক্যাম্পাসে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র অনুমোদিত অটোরিকশাগুলোই চলাচল করতে পারবে। এসব অটোরিকশায় লিথিয়াম আয়ন বা পরিবেশবান্ধব উন্নত মানের ব্যাটারি, হাইড্রোলিক ব্রেক সিস্টেম এবং প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চালকদের জন্য নির্দিষ্ট ড্রেস কোড নির্ধারণ করা হয়েছে—QR কোড যুক্ত উজ্জ্বল রঙের পোশাক, যার বুকে ও পিঠে নির্দিষ্ট নম্বর থাকবে। চালকদের দক্ষ, অভিজ্ঞ ও বিনয়ী হতে হবে। প্রত্যেক চালককে মালিকানার কাগজপত্র, মোবাইল নম্বর, আইডি কার্ড ও ছবি সংযুক্ত তিন সেট নথি এস্টেট অফিসে জমা দিতে হবে।
দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকের ওপর বর্তাবে—এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। ইভটিজিং বা দুর্ঘটনার ঘটনায় গুরুদণ্ড এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ করলে লঘুদণ্ডের ব্যবস্থা করা হবে।
রাতের বেলায় প্রতিটি অটোরিকশায় টর্চলাইট রাখা বাধ্যতামূলক। ক্যাম্পাসে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২০ টাকা। এছাড়া চালকের ন্যূনতম বয়স ২২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, অনুমোদনবিহীন ও অনিবন্ধিত কোনো অটোরিকশা বা চালক ক্যাম্পাসে চলতে পারবে না। প্রত্যেক চালকের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রতিটি অটোরিকশাকে মাসে একবার এস্টেট অফিসে রিপোর্ট করতে হবে।
প্রাথমিকভাবে ১০০টি অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হবে এবং প্রতিটি অটোরিকশা থেকে মাসে ১০০ টাকা করে আপাদকালীন চার্জ নেওয়া হবে। আগামী ৩ নভেম্বর অটোরিকশা চালুর জন্য আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং ১৫ নভেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (জাকসু) পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক তানভীর রহমান এক ফেসবুক স্টাটাসে জানান, “ক্যাম্পাসে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য স্যারের অনুমোদনের পর ৩ নভেম্বর থেকেই আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।”