বয়স যেন শুধু সংখ্যামাত্র— দীপ্তি, সৌন্দর্য, মাধুর্য আর আত্মবিশ্বাসে যেন তিনি এখনো নব্বই দশকের সেই তরুণী ঐশ্বরিয়া। প্রমাণ করেছেন, সত্যিকারের সৌন্দর্য কখনো ম্লান হয় না; তা থেকে যায় চোখে, মননে আর অনুপ্রেরণায়।
গত ১ নভেম্বর, বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের জন্মদিন ছিল। ৫১ পেরিয়ে ৫২ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই! এজন্য ভক্তরা বলছেন— “ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, সময় তোমার কাছে হার মানিয়েছে।”
১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর কর্নাটকের ম্যাঙ্গালোরে জন্ম নেওয়া ঐশ্বরিয়া ছোটবেলায় পরিবারসহ মুম্বাইয়ে চলে আসেন। মডেলিং দিয়ে শুরু করে ১৯৯৪ সালে জয় করেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ খেতাব। এরপর ১৯৯৭ সালে তামিল সিনেমা ‘ইরুবার’ দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ, আর ‘জিন্স’ সিনেমা দিয়ে পান প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য। ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন, উপহার দেন একের পর এক স্মরণীয় সিনেমা— ‘তাল’, ‘দেবদাস’, ‘জোধা আকবর’, ‘গুরু’, ‘ধূম ২’, ‘রেইনকোট’ প্রভৃতি। বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর পারো চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকদের মনে অমলিন।
শুধু বলিউড নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য পিঙ্ক প্যান্থার ২’র মতো হলিউড প্রজেক্টে কাজ করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। কান চলচ্চিত্র উৎসবে বহু বছর ধরে তিনি ভারতের মুখ হয়ে, তার রেড কার্পেট উপস্থিতি এখন এক ঐতিহ্যের প্রতীক।
ঐশ্বরিয়া লরিয়েল প্যারিসের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও পরিচিত। পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ঐশ্বরিয়া রাই ফাউন্ডেশন’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে বদলায়, কিন্তু কিছু নাম সময়কেও হার মানায়— তেমনই এক নাম ‘ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন’। রূপ ও প্রতিভার অসাধারণ মেলবন্ধনে তিনি আজও বলিউডের এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক, যার দীপ্তি সময়ের সঙ্গে শুধু বেড়েই চলেছে।