গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী হেনস্থার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে গোবিপ্রবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহিরের নাম আলোচনায় এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার(৩১অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে ক্যাম্পাসের ম্যুরাল কমপ্লেক্সের পশ্চিম পাশে কয়েকজন অজ্ঞাত শিক্ষার্থী মাদকদ্রব্য সেবন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে আসলে সহকারী প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষক ও আনসার সদস্য সেখানে পৌঁছান। কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ‘বালুর মাঠ’ এলাকায় ধাওয়া করে তাদের একজনকে আটক করা হয়।
আটক শিক্ষার্থী দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও মাদকসেবন করেননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, তার মধ্যে নেশাগ্রস্ত হওয়ার কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি। তবে, আনসার সদস্যদের শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে পৌঁছান। তারা আনসার কর্তৃক শিক্ষার্থী হেনস্থার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যে জানা যায়, এ সময় মার্কেটিং বিভাগের ২০১৬–১৭ সেশনের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল গোবিপ্রবি শাখার সহ-সভাপতি জহিরের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে এই গোলযোগের মধ্যেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পালিয়ে যান। পরবর্তীতে প্রক্টর অফিসে উভয়পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে যে, ছাত্রদলের জহির সহকারী প্রক্টর ও কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করেছেন। তবে এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জহির এই বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এলাকার বাইরে কোনো শিক্ষার্থীর ওপর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের এখতিয়ার প্রক্টরিয়াল বডির নেই। আনসার সদস্যরা একজন শিক্ষার্থীকে যেভাবে শারীরিক ও মৌখিকভাবে হেনস্থা করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি শুধু সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
এই বিষয়ে প্রক্টর আরিফুজ্জামান রাজীব বলেন, জহিরের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আসন্ন রিজেন্ট বোর্ড মিটিংয়ের পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে প্রযোজ্য শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো।