দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের ৩০ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। তবে আত্মপ্রকাশের এক বছর পার হলেও দলীয় একক ব্যানারে কোনো ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি দেয়নি সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাবি ছাত্রশিবির জাকসু নির্বাচনে প্রায় একচেটিয়াভাবে জয়লাভ করেছেন। অর্থাৎ ক্যাম্পাসে তাদের নেতা-কর্মী যথেষ্ট। তারপরও তারা একক ব্যানারে কোনো প্রতিবাদ সমাবেশ করেনি। বিভিন্ন সময়ে তারা জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারের অনুষ্ঠিত হওয়া কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নিলেও এককভাবে কর্মসূচি দেয়নি।
সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরুর পর জাবি ছাত্রশিবিরের দুটি কমিটি হয়েছে। বর্তমান কমিটিতে ১৭ জন নেতা-কর্মীর নাম রয়েছে। তবে বাস্তবে তাদের নেতা-কর্মীর সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। জাকসু নির্বাচনে ২৫ টি পদের ২০ টি পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করে। এতে ভোটের হিসেবে ক্যাম্পাসে ১৭০০ থেকে ২৫০০ পর্যন্ত ভোট তাদের প্রার্থীরা পেয়েছিলেন।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শিবিরের কমিটিতে ১৭ জন নেতা-কর্মীর নাম থাকলেও বাস্তবিক অর্থে তাদের নেতা-কর্মীর সংখ্যা আরও বেশি। তারা তাদের সব নেতা-কর্মীকে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিতি না করানোর জন্যই একক ব্যানারে কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেননি।
এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, ছাত্রশক্তি সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচি করে এসেছে। তার সাথে সাথে নিজেদের ব্যানারেও নানা ইস্যুতে ছাত্রশক্তি কর্মসূচি দিয়েছে। যেমন: ধর্ষণ বিরুধী আন্দোলন, ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল প্রতিবাদে কর্মসূচিও আমরা করেছি আমাদের ব্যানারে। ছাত্রদলকেও দেখেছি এসব ইস্যুতে নিজেদের ব্যানারে কর্মসূচি করেছে। কিন্তু এসব ইস্যুতেও ছাত্রশিবির নিজেদের ব্যানারে কোনো কর্মসূচি করেনি। একজন রাজনৈতিক কলিগ হিসেবে আমি বলতে পারি যে তাদের উচিত এসব রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজেদের একান্ত কর্মসূচি করা। কারণ তা না হলে একটি প্রশ্ন থেকে যায় ভবিষ্যতে কেনো সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে আসবে যদি একটি দল রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতে কাজই না করে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাবি শাখার সদস্য সচিব ওয়াসীম আহমেদ অনিক বলেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী গুপ্ত রাজনীতি বা লুকয়ে রাজনীতি করার কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু অভ্যুত্থানে আমরা সবাই মিলে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছি। তাই আমাদের প্রকাশ্যে রাজনীতি করার যথেষ্ট পরিবেশ আছে। প্রত্যেকেই তার রাজনৈতিক সক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক ন্যারেটিভ প্রচার করতে পারে। এখনো যারা রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা লুকিয়ে রাজনীতি করছে এটা তাদের হীনমন্যতার পরিচয়। হীনমন্যতা থেকে বের হয়ে সামনে উদার গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য পদ্ধতিগত গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
সার্বিক বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির জাবি শাখার সেক্রেটারি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এককভাবে করিনি (কর্মসূচি) মানে এই না যে সামনে করবো না। আমাদের যদি মনে হয় করা উচিত তাহলে আমরা সামনে করবো। বিগত বছরগুলোতে দেখা যায় বিশেষ করে জাকসুর আগে, তখন সবার এজেন্ডা এক ছিলো। তাই সবাই একসাথে মার্চ করেছি। তখন আলাদা করার প্রয়োজনই ছিলো না। যেমন: সবার একটা দাবি ছিলো জাকসু, ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা। সেজন্য সব আমরা একসাথে মার্চ করে করেছি। এখন সামনে হয়তো করতে হবে। করবো যখন সামনে কোনো ইস্যু আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের থিওরি হচ্ছে যে, মিছিল মিটিং তো পলিটিক্স এর একটা অংশ। আমরা যে ধরনের এক্টিভিটি চালাই, আমাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি আছে। সেখানে স্পষ্ট করে কাজগুলো লেখা আছে। আমাদের অনেক কাজের মধ্যে মিছিল মিটিং একটা কাজ। আর মিছিল মিটিং-ই কাজ। জাকসুতে আমাদের প্রতিনিধিরাই গিয়েছে কিন্তু পরবর্তী সময়ে যদি কোনো ইস্যুতে আমাদের আলাদাভাবে কর্মসূচি দিতে হয় তাহলে সেটাও পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা দিবো। এখন অব্দি প্রয়োজন হয়নি দেখে আমরা দেইনি।