জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর প্রতিবাদ সমাবেশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনকে দায় দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রধান ফটকের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ করে চলে যায় এটার দায় পুরোপুরি প্রশাসনের। প্রশাসনে অনেক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা বসে আছে। তারা এটার সঙ্গে জড়িত বলে দায় দিচ্ছেন কেউ কেউ।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সমাবেশের ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ভিডিওটি মঙ্গলবার ভোররাতের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা বক্তব্য দেন। বাকি দুজনের মুখে মাস্ক পরিহিত থাকায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সমাবেশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও জাকসুর নেতা-কর্মীরা।
জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ডেইরি গেটে এসে মিছিল করে যায়,অথচ প্রশাসন জানেনা। এরা যে দুদিন পর শিক্ষার্থীদের উপর গুপ্ত হামলা করবে না,তার নিশ্চয়তা কী? আমরা বিগত সময়ে দেখেছি ছাত্রদল ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো প্রোগ্রাম করলে, প্রশাসন ও ছাত্রলীগ জেনে যেত এবং তাদের উপর হামলা করতো। কিন্তু এখন প্রশাসন জানছে না, নাকি প্রশাসনের কেউ এসবের সাথে জড়িত?
তিনি আরও বলেন, তারা ডেইরি গেটে এসে মিছিল করলো, অথচ গেটের সিকিউরিটি ম্যানরা, প্রক্টর অফিসকে জানায়নি। আবার প্রক্টর অফিস চলছে সাবেক ছাত্রলীগার দিয়ে। কোনো এক অজানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দায়িত্ব থেকে সরাচ্ছেনা। সিকিউরিটি অফিসে থাকা ছাত্রলীগাররা যদি কোনোরকম রাষ্ট্রবিরোধী ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ কাজে জড়িত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চায় তাহলে এর দায়ভার কে নিবে?
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান ফেসবুকে বলেন, স্বৈরাচারের আমলে ছাত্রদল যখন গেটে পোস্টার সাটাতো, তালা দিত, মিছিল করতো গেটের দারোয়ান থেকে শুরু করে নিরাপত্তা কর্মী এমনকি শিক্ষকরা পর্যন্ত সাথে সাথে ছাত্রলীগ কে অবহিত করত। আমাকে ক্যাম্পাস প্রশাসনের সামনেই মারা হয়েছিলো কেউ টু শব্দ পর্যন্ত করেনি।
সেখানে ছাত্রলীগ ডেইরি গেটে ওপেনে মিছিল করে কিন্ত কোন খোজ পাওয়া যায়না। এই আওয়ামী প্রশাসন, আওয়ামী কর্মচারী,কর্মকর্তা যতদিন ক্যাম্পাসে থাকবে এগুলা হতেই থাকবে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, ভিডিওটি দেখার পর পুলিশকে পাঠিয়েছি এবং ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আর তারা সমাবেশটি কখন করেছে সেসব বিস্তারিত রিপোর্ট নিরাপত্তা শাখাকে দ্রুত জমা দিতে বলেছি। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করা হচ্ছে।