হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে হিন্দু ধর্মের দ্বিতীয় বৃহত্তম পূজা, যেটি কালীপূজা কিংবা শ্যামা পূজা নামে পরিচিত। একই সাথে উদযাপিত হয়েছে দীপাবলি উৎসব।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ২০ অক্টোবর বিকেল ৩:৪৪ মিনিটে হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মন্দিরে উদযাপন শুরু হয় । এই উদযাপন ২১ অক্টোবর বিকেল ৫:৫৪ মিনিটে শেষ হবে।
“বারো মাসে তেরো পার্বণ “একটি প্রচলিত প্রবাদ,প্রবাদটি বাঙ্গালীদের সংস্কৃতিকে গভীরভাবে ধারণ করে।ঠিক এরই ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে বাঙালি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নানান উৎসব পালন করে আসছে।হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এর ব্যতিক্রম নয়,এইতো কয়েকদিন আগে দুর্গোৎসবের আমেজ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রঙ্গিন রূপে চলে এলো দীপাবলি উৎসব।
পূজা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মন্দির সজ্জিত হয় ফুল,কারুকার্য ও কলা গাছ দিয়ে। প্রবেশমুখ কলা গাছের সাথে প্রদীপের প্রজ্বলিত শিখায় আকর্ষণীয় করে তোলা হয়, আর ভেতরে ধূপ, ফল, ফুল ও শাখা-সিন্দুর সহযোগে দেবীমূর্তি সাজানো হয়েছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে। বিকেল ৫.০০ -শ্যামা সংগীত দিয়ে শুরু হয় আচার অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬.২০ – প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়,রাত ৭.৩০ দেউচি ভেওলো (নেপালি শিক্ষার্থী দের) পরিবেশন করা হয় এবং রাতে ১২.০০ সময়ে,নির্দিষ্ট তিথী অনুযায়ী শ্যামা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সনাতনী বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি রিপন চন্দ্র সেন বলেন, “প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মন্দিরে সনাতন সংস্কৃতির শ্বাশত আহ্বান অন্ধকার থেকে আলো, মৃত থেকে অমৃতে, মিথ্যা থেকে সত্যের পথে চলার আলোকবর্তিকা, আলোর এই উৎসব দীপাবলি ও শ্যামাপূজা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অনুষ্ঠিত হলো। সেই সাথে বাংলাদেশে এই প্রথমবার পরিবেশিত হলো হাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত নেপালি সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সংস্কৃতির দীপাবলি কেন্দ্রীক “দেউচি ভেওলো”। দীপাবলির এই শুভক্ষণে সকলে সুখী হোক, সমৃদ্ধ হোক, সর্বত্র শান্তি বিরাজিত হোক।”
SVS এর সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায় বলেন, সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হাবিপ্রবিতে , “সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দীপাবলি অনুষ্ঠান ও প্রথমবারের মতো শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর ভাবে দীপাবলি অনুষ্ঠানকে সফল করতে পেরেছি।”