নানা আয়োজনের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের উদ্যোগে উদযাপন করা হয় মহালয়া এবং দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে দেবী বন্দনার।
রোববার ( ২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে পাঁচটায় মঙ্গল আরতি ও বেদমন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
আয়োজনে ছিল, ভোর সাড়ে পাঁচটায় মঙ্গল আরতি, পরে সাড়ে ছয়টার দিকে বেদ মন্ত্র পাঠ, সাতটায় শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠ , ধর্মীয় গান – নাচ এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উক্ত অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল মহিষাসুরমর্দিনী নাটক। পরিশেষে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মহালয়া উদযাপন আহ্বায়ক কমিটি ২০২৫ এর আহ্বায়ক কেবি জর্জ রায় বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বারের মতো মহালয়া উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সূচনাকে কেন্দ্র করে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে সৃষ্টি হয় ভক্তিমূলক ও আধ্যাত্মিক আবহ। আয়োজনে ভোরের আলোয় শুরু হয় চণ্ডিপাঠ ও বেদপাঠের মধ্য দিয়ে। এরপর পরিবেশিত হয় মহালয়ার বিশেষ সংগীত,ধর্মীয় নৃত্য । বিদ্যার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, মহালয়া শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। শুভ শক্তির জয় ও অশুভ শক্তির বিনাশের বার্তা নিয়ে মহালয়া বাঙালি জীবনে আশার আলো জ্বালায়। পরিশেষে দেবী দুর্গার আগমন উপলক্ষে সবার মাঝে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সমৃদ্ধির কামনা করা হয়।
মহালয়া উদযাপন আহ্বায়ক কমিটি ২০২৫ এর সদস্যসচিব অমি দেব বলেন, মহালয়ার সকালে সূচনা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার। শরতের শুভ্র ভোরে বেদ মন্ত্র ও চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে সূচনা হলো দেবী পক্ষের। আশা করি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, চণ্ডীতেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো মহালয়া। পুরাণমতে, মহালয়ার দিন মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। তাই এদিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। আজকে দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়।