উত্তরবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় স্থাপনার মধ্যে অন্যতম হলো তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, যা প্রতিদিন শত শত স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকে। কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছে একাডেমিক পড়াশোনার জন্য, কেউ চাকরির প্রস্তুতির জন্য—তাদের একটাই লক্ষ্য, জ্ঞান অর্জন করে মানুষের মতো মানুষ হওয়া এবং মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করা।
মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করে ডান পাশের সড়ক ধরে এগোলেই পৌঁছে যাওয়া যায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-তে। টিএসসি’র পশ্চিমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং তার পেছনেই অবস্থিত হাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। এর উত্তরে নূর হোসেন হল মাঠ, দক্ষিণে অডিটোরিয়াম-১ এবং পশ্চিমে মেডিকেল সেন্টার।
যদিও গ্রন্থাগারটির স্থাপনের সঠিক সাল পাওয়া যায়নি, তবে ধারণা করা হয় ১৯৮৬ সালের দিকে, যখন এটি কৃষি কলেজে রূপান্তরিত হয়, তখনই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির যাত্রা শুরু হয়।
তিনতলা বিশিষ্ট এই গ্রন্থাগারের প্রথম তলায় রয়েছে সার্কুলেশন বিভাগ, যেখানে একাডেমিক ও অন্যান্য বিষয়ের বিপুল সংখ্যক বই পাওয়া যায়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা এখান থেকে বই ধার নিতে পারেন। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে টেক্সট ও রেফারেন্স বই পড়ার জন্য আলাদা আসন ব্যবস্থা। এখানে ১৫০টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ১০০টি এসি সুবিধাসম্পন্ন। তৃতীয় তলায় সংরক্ষিত রয়েছে বিভিন্ন জার্নাল, গবেষণাপত্র, থিসিস ও অন্যান্য প্রকাশনা। এখানেও রয়েছে ১০০টি এয়ার-সারকুলেশনযুক্ত আসন।
গ্রন্থাগারের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর ডিজিটাল সেবা। অনলাইন ক্যাটালগের মাধ্যমে সহজেই বই অনুসন্ধান ও সংগ্রহ করা যায়। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ২০,০০০ শিরোনামের ই-বুক এবং ক্যাম্পাসব্যাপী ই-জার্নাল অ্যাক্সেস সুবিধা।
গ্রন্থাগারের সব কার্যক্রম এখন অটোমেশন করা হয়েছে। বই অনুসন্ধান, ইস্যু-ফেরত, সদস্য নিবন্ধন, ক্যাটালগিং, রিপোর্ট তৈরি এবং ডিজিটাল রিসোর্স ব্যবহারের কাজগুলো এখন আধুনিক সফটওয়্যার ও ইন্টারনেটভিত্তিক সিস্টেমে সম্পন্ন হয়।
প্রতিদিন প্রায় ২৫০ আসনই পূর্ণ হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের প্রতি গভীর আগ্রহ ও স্বপ্নপূরণের দৃঢ় সংকল্প।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে হাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ইতিমধ্যেই জ্ঞানচর্চার একটি সমৃদ্ধ ক্ষেত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে।