বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের নিন্দা বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন সচিবের নামও রয়েছে

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:০৯
A+A-
Reset

জাবি প্রতিনিধি

জাকসু নির্বাচন কমিশনের ‘কয়েকজন সদস্যের’ ছত্রছায়ায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপপ্রচার ও নির্বাচনী অনিয়ম হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাহাজাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
আজ শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এক বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা জানান। ওই বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিবসহ ৫৮ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হয়। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা সেটি ফলাও করে প্রচার (ভাইরাল) করে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, ওই সময় রিটার্নিং অফিসারগণের তত্ত্বাবধানে শুধুমাত্র ব্যালটবাক্স সহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়।

ব্যালট পেপার বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় নির্বাচনের দিন অর্থাৎ পরদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে। এ ধরণের ঘৃণ্য মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই ছাত্রদলকে কোনঠাসা করে ফেলা হয়। এই বিশেষ রাজনৈতিক দল যদিও মুখে মুখে সব সময় সৃষ্টিকর্তার নাম নেয় কিন্তু একটি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য এরা মিথ্যাচারের মতো পাপে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ওই ‘বিশেষ রাজনৈতিক মতাবলম্বী সদস্যদের’ ও তাদের দোসর প্রভোস্টদের অপতৎপরতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। জাল ভোট দেয়া ও প্রার্থী। প্রতিনিধি/ সাংবাদিকদের হয়রানি (মব) করার অভিযোগ উঠে ১৫ নং ছাত্রী হল, জাহানারা ইমাম হল, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে। ১৫ নং ছাত্রী হলের প্রভোস্ট সরাসরি একটি প্যানেলের পক্ষে ভোট চেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ও পর্যবেক্ষক দল ওই হলে ব্যালট পড়ে থাকাসহ নানান অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেছেন।

তারা আরও বলেন,  বিস্ময়করভাবে হল সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ক্রমিক নম্বর ও মুড়ি থাকলেও জাকসুর ব্যালটে এগুলো ছিলোনা। অথচ “ক্রমিক নম্বর” হলো ভোটের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যালট পেপারে থাকা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা, যা গণনার জন্য ব্যবহার করা হয়। এমনকি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকাও ছবি-সংযুক্ত আকারে সরবরাহ করা হয়নি, যা ভোটার শনাক্তকরণে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি থাকায় বহু শিক্ষার্থী নিজ হলে ভোট দিতে পারেননি। দ্বৈত ভোটদানের মতো নির্বাচনী জালিয়াতি প্রতিরোধের জন্য নির্বাচনী অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হয়নি অনেক ক্ষেত্রেই। আমরা মনে করি নির্বাচনের আগের রাতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ও নির্বাচনের দিন বিভিন্ন অনিয়ম একই সূত্রে গাঁথা। আমরা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার জন্য আয়োজিত এই প্রহসনের নির্বাচনের তীব্র নিন্দা জানাই ও অভিযোগগুলো সুষ্ঠু সুরাহার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানাই।

এই বিবৃতিতে যাদের নাম রয়েছে তাদের অন্তত পাঁচজন শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন তারা বিবৃতি সম্পর্কে অবগত নন। জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, আমাকে অবগত না করে আমাকে নাম দেওয়া হয়েছে

আপনার পছন্দ হতে পারে