জাকসুতে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৫
A+A-
Reset

আসন্ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে “স্বচ্ছতা ও দক্ষতায়, ন্যায্যতায় নিশ্চয়তায়” স্লোগানকে ধারণ করে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল ৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

আজ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আরিফ উল্লাহ।

এসময় সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলাসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তাদের ইশতেহারগুলো হলো-
১. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনের প্রচেষ্টা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিচার নিশ্চিতে সরব ভূমিকা রাখা।
২.সেশনজট নিরসনে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন এবং মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টিসহ দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ বন্ধে সোচ্চার ভূমিকা ও কোর্স শেষে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা।
৩.বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পূর্ণাঙ্গ ইকোলজিক্যাল মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নসহ জীববৈচিত্র রক্ষায় অভয়ারণ্য ঘোষণা ও সংরক্ষণ এবং ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, কনজারভেশন ক্যাম্পেইন, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও রিসাইক্লিং সিস্টেম জোরদার করা।
৪. আর‍্যাগিং, গেস্টরুম কালচার ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাসহ
ডাইনিংয়ে অন্তত ৫০% ভর্তুকি আদায় করে সুলভমূল্যে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রতি তলায় বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার
স্থাপন করা। ছাত্রী হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন নিশ্চিতকরণ ও নবনির্মিত ছাত্রী হলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ‘সাউন্ডপ্রুফ গ্লাস’ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয় করা৫. ক্যাফেটেরিয়াতে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা ও বিকালের নাস্তা চালুর সাথে ডিজিটাল কুপন সিস্টেম সংযোজন করা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল আদায়ের জন্য লড়াই ও ২৪/৭ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা। এছাড়াও স্বাস্থ্যবীমা চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৬. খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম ও ইনডোর গেমস সুবিধার উন্নয়ন প্রতিটি বিভাগ ও হলে পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত আন্তঃবিভাগ ও আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
৭.যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ‘যৌন নিপীড়ন অভিযোগ সেল’ শক্তিশালীকরণ এবং সাইবার বুলিং, রেসিজমসহ অনলাইন ও অফলাইনে নারীর প্রতি সকল প্রকার বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। একইসঙ্গে ‘মা’ শিক্ষার্থীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার চালু এবং প্রতিটি অ্যাকাডেমিক ভবনে নারী কমনরুম স্থাপন করাসহ কেন্দ্রীয় মসজিদসহ প্রতিটি ভবনে নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রাখা।

৮. ক্যাম্পাসের সকল দাপ্তরিক কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড চালু করা।অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ পরিবহন সমস্যার সমাধান ও ফুটপাত নির্মাণ ও পরিবহণের ‘লাইভ ট্র্যাকিং অ্যাপ’ চালু করা।

৯. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অবকাঠামো: র‍্যাম্প, লিফট, ব্রেইল বই, অডিও বুক, ই-লার্নিং টুলস সুবিধা সংযোজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে দৃষ্টিজয়ী শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখক ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় প্যানেলটি। এছাড়াও বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে সমন্বয় করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

ইশতেহারের বিষয়ে সহ-সভাপতি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ বলেন, আমরা আশা করছি যে শিক্ষার্থীরা আমাদের ইশতেহার সাদরে গ্রহণ করবে এবং আমাদের ভোট দিয়ে আমাদের যে যৌক্তিক আন্দোলন আছে তার সাথে সোচ্চার হবে। এখানে যতগুলো দফা আমরা দিয়েছি সেগুলো সবগুলোই যাচাই-বাছাই করে দেওয়া। এগুলো আগামী এক বছরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। মেডিকেলের সংস্কার এক বছরে সম্ভব না। চাইলে সম্ভব হবে। তবে যদি এটা না হয় আমরা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে দিয়ে যাবো যাতে পরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। প্রশাসন যদি সুষ্ঠু ভাবে আমাদের সহযোগীতা করে তাহলে সবগুলোই বাস্তবায়ন সম্ভব। আমরা কাজ করবো শিক্ষার্থীদের কন্ঠস্বর হিসেবে। তাদের সমস্যা আমরা প্রশাসনকে জানাবো এবং তারা এই সমস্যা নিরসন করবো।

আপনার পছন্দ হতে পারে