আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে সহ-ক্রীড়া সম্পাদক (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তানভীর সিদ্দিকী সাইমুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচে অধ্যায়নরত মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তিনি।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় আগ্রহী সাইমুন স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলার। পরিবারের চাপ আর নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির সুযোগ পেলেও শারীরিক অসুস্থতা আর ক্রীড়া জগতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নানান হিসাব-নিকাশে সে স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেছে ৷ আশার আলো দেখতে পায়নি। নিজের স্বপ্ন পূরণ না হলেও প্রতিভাবান ও আগ্রহী খেলোয়াড়দের স্বপ্ন পূরণের সহায়ক হয়ে কাজ করতে চান সাইমুন। একটু আধটু সেই লক্ষ্য পূরণে কাজও করে যাচ্ছেন তিনি। বিকেএসপি থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর খেলোয়াড়দের সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম জেইউ স্পোর্টস ক্লাব তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন তিনি। পরিচালনা করছেন দেশীয় স্পোর্টস ব্রান্ড ওয়ারিক্স।
সাইমুনের বেড়ে ওঠা সাতক্ষীরা জেলার কালিগজ্ঞ থানার মুকুন্দমধুসূদনপুর গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধূলা পছন্দ ছিল তার। কিন্তু পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান হওয়ায় বাবা-মা চাইতেন লেখাপড়া করে ভালো চাকরি করুক। সাইমুনও সেটাই মেনে নিয়ে পড়াশুনা করত। তবে খেলাধূলা থেকে দুরে সরে যাননি তিনি। লুকিয়ে হলেও খেলতেন তিনি। এর জন্য বাবা-চাচার কাছে অনেক সময় মার খেতে হত । চাচার কাছ থেকে ব্যাট বানিয়ে নেওয়ার নেশায় পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য পরিশ্রম করে পড়াশোনা করতেন তিনি।
প্রাথমিক স্কুলের আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে সব ধরনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনের গৌরব রয়েছে তার। খেলাধুলা করতে করতে পড়াশোনাটাও ধরে রেখেছিলেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তিও পেয়ে যান সাইমুন। তারপর থেকে খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার অনুমতিও পেয়ে যান পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। ছষ্ঠ শ্রেণী থেকেই স্কুলের ফুটবল দলে জায়গা হয় তার। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি সাইমুনকে। সব বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে জায়গা করে নেন বিকেএসপিতে।
প্রত্যন্ত গ্রামের একটি স্কুল থেকে বিকেএসপিতে জায়গা করে নেওয়ার যাত্রা শোনাচ্ছিলেন সাইমুন। তিনি বলেন,
২০১২ সাল তখন। আমি সদ্য স্কুলের খেলা শেষ করেছি ঠিক তার কিছুদিন পরে “বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-বাফুফে” এর আয়োজনে অনুদ্ধ-১৬ তে সারাদেশে খেলোয়াড় বাছাইয়ের জন্য একটা খবর শুনতে পাই। মূলত এই খেলোয়াড় বাছাই হচ্ছিলো বাফুফের অ্যাকডেমির জন্য। আমি অনেক শুনেছি এমন বাছাই হয় তবে আমাদের মত গ্রাম থেকে যারা যায় তারা সুযোগ পায় না। উপজেলার স্থানীয় মাঠে যারা প্রাক্টিস করে তারা পায়। আমার ইচ্ছে ছিল, কি হয় আমি দেখব। আমি আব্বুকে না জানিয়ে মামাতো ভাইকে নিয়ে ট্রায়াল দিতে যাই। আমি জানতাম আমাকে নিবে না। কারণ আমার কোনো কোচ ছিল না। আমাকে চিনেও না কেউ। তবে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল , আমাকে যে কাজগুলো করতে বলবে আমি করব এবং করেছিলামও। আমার ট্রায়াল শেষে আমি জানতাম আমাকে নিবে না। আমি উপজেলা মাঠের পাশে একটা দোকানে বসে সিংড়া খাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে একজন আমাকে বলেন তুই খেলোয়াড় নাহ,তোর নাম কি তানভীর? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি আমাকে বলেন, মাঠে যা স্যার ডাকছে। মাত্র ১২ জন নির্বাচিত হয়েছিল। আমি তার মধ্যে ছিলাম। আম অবাক হয়েছিলাম। আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, আব্বুকে না জানিয়ে ট্রায়াল দিতে গিয়েছিলাম, তিনি যদি জানতে পারে তাহলে কি হবে। যাইহোক আব্বুকে বুঝলাম। এবার জেলায় (সাতক্ষীরাতে) ট্রায়াল। সেখানেও সিলেক্ট হয়েছিলাম। এরপর বিভাগে (খুলনাতে) ট্রায়াল হবে।কিন্তু আমার আর বাবা যেতে দেই নি।
যাত্রাটা সেখানেই থেমে গিয়েছিলো। হঠাৎ একদিন একজন ভদ্রলোক আমার বাবার নাম্বারে কল দেন। কলোরোয়ার একটা ফুটবল দল খুলনাতে খেলতে যাবে তারা আমাকে তাদের দলে রাখতে চায়। কিন্তু বাবা রাজি হননি। একটা সময় আমার বাড়িতে এসে বাবাকে বুঝিয়ে রাজি করায় তার। খুলনাতে খেলতে যাই এবং সেখানে চ্যাম্পিয়ন হই। খুলনাতে খেলার সময় আমি লক্ষ্য করতাম বিকেএসপির ট্রাকসুট পরা কিছু ছেলে আসত। দেখে খুব আলাদা লাগতো তাদের খেলার ভঙ্গি, চলাফেরা সবকিছু আলাদা ছিল।কৌতূহলবসত আমি বিকেএসপি কি জানার চেষ্টা করি এবং ঐ সময়ে বিকেএসপি নিয়ে খুব আগ্রহ জন্মায়। আমি আমার টিমের কোচ মুস্তাফিজ স্যারকে জিজ্ঞেস করি বিকেএসপিতে চ্যান্স পেতে হলে কি করা দরকার। তখন তিনি আমার পরিচয় করিয়ে দেন খুলনার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি ইউসুফ স্যারের সাথে। স্যারকে আমি আমার আগ্রহের ব্যাপারে জানালে তিনি আমাকে উৎসাহ দেন। স্যার আমাকে বলেন সামনে তিন মাসের ক্যাম্প আছে আমি তোমার জন্য রিকুয়েষ্ট করব। আমি স্যারের নাম্বার নিলাম,স্যার আমার নাম্বার রাখলেন। আমি খুলনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঢাকা খেলতে যাই। সেখানে গিয়ে বয়স বেশি উল্লেখ করে আমাকে বাদ দেয়। আমি বাড়ি চলে আসি। স্কুলে,বাড়িতে আশে পাশের মানুষ বলতে থাকে “সাইমুন ঢাকার প্লেয়ার” শুনতে ভালো লাগত। আমিও এইটুকুতে খুশি ছিলাম। বাড়ি ছেড়ে ২০ দিন বাইরে ছিলাম তাই কেমন দম বন্ধ লাগছিল। তিন মাস থাকব কিভাবে সেই চিন্তা করতাম। তখন বাবাও বললেন অনেক খেলাধূলা হয়েছে পড়াশুনায় মন দাও। আমিও পড়াশুনা নিয়ে সিরিয়াস হয়ে যাই। তারপর হঠাৎ ইউসুফ স্যারের কল তুমি বিকেএসপির ক্যাম্প করবে বলেছিলে। আমি রিকুয়েস্ট করেছি আশা করি তুমি ক্যাম্পে ডাক পাবে রেডি থাকো। আমি সরাসরি না করে দিলাম যে,আমি আর যাবো না। বাবা না করেছে। স্যারও বললেন ঠিক আছে।
হঠাৎ আবার একদিন ইউসুফ স্যারের কল। স্যার এবার সরাসরি বলললেন তোমার বাবাকে ফোন টা দাও কথা বলব। বাবাকে কি বলেছিলেন ঠিক জানতাম না। তবে বাবা আমাকে বললেন আগামী ৭ তারিখ খুলনা যাবা তারপর স্যারের সাথে বিকেএসপির ট্রায়ালে। আমি বাবার কথা মতো গিয়েছিলাম। ট্রায়াল দিয়ে বাড়ি আসলাম। ১০-১৫ দিন পর (সঠিক মনে নাই) আমাকে জানানো হলো আমি বিকেএসপির ৭ দিনের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এভাবেই শুরু হয়েছিল বিকেএসপির যাত্রা। সাতদিনের ক্যাম্পে গিয়ে আমি সর্বোচ্চ ভালো করার চেষ্টা করি।আমার মনে আছে সেসময় অন্য সবাইকে দেখে আমি অনেক চুপ চাপ থাকতাম। কারণ মনে করতাম এত ভালো-ভালো প্লেয়ারের মধ্যে আমি কিভাবে চান্স পাবো। তাও মাঠে গিয়ে কোন ভাবেই হাল ছাড়তাম না। এভাবে শেষ করলাম ৭ দিনের ক্যাম্প।বাড়ি গিয়ে আবার পড়াশুনা। আবার একদিন হুট করে কল দেন উজ্জ্বল চক্রবর্তী নামে একজন(পরে জানতে পারি স্যার আমাদের চীফ কোচ)। স্যার আমার নাম জিজ্ঞেস করে বললেন তুমি বিকেএসপিতে চান্স পেয়েছো অমুক তারিখ তোমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে চলে আসো। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমি বাবকে বললাম বাবা সরাসরি বললেন যে এগুলা মিথ্যা। টাকা-পয়সা খাওয়ার জন্য এগুলা বলতেছে। আমিও সেটাও ভেবে মন খারাপ করে আমার পড়াশুনার দৌড় শুরু করলাম। দুই-তিন দিন যাওয়ার পরে ইউসুফ স্যার কল দিয়ে বললেন তুমি কিভাবে ঢাকা যাবা। সমেশ,তুহিন ও যাবে একসাথে যাও খুলনা এসে।পরে স্যারকে বললাম বাবা বিশ্বাস করে না। পরে স্যার নিজেই আমার বাড়িতে এসে বাবকে বুঝিয়ে তারপর বিশ্বাস করালেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে আমার ভর্তির ব্যবস্থা করলেন। এভাবেই সাইমুনের বিকেএসপির যাত্রা। দুর্গম পথ পেরিয়ে সাইমুন বিকেএসপিতে জায়গা করে নিলেও বিকেএসপির যাত্রা শেষে একরম খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল তাকে। ঝুড়িতে ছিল শুধু অসম্পূর্ণ স্বপ্ন আর বিষাদের স্মৃতি।
সাইমুন জানালেন তার বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পরবর্তী জীবনের গল্প। তিনি বলেন, আমার কোন কোচ ছিলো না,আমি কখনো ওভাবে প্রাক্টিস করিনি,আমি একজন সিজনাল খেলোয়াড় ছিলাম। মানে বাড়িতে সব খেলা খেলতাম। কিন্তু ভাগ্য আমাকে ফুটবলে নিয়ে আসলো।
বিকেএসপি থেকেই আমার ফুটবলে হাতে-খড়ি। আমার বিকেএসপিতে বেতন ছিল মাসে ৫০০ টাকা। বিকেএসপির নিয়ম ছিল, কেউ বয়স ভিত্তিক ন্যাশনাল খেলায় অংশ নিলে এবং লেখাপড়ায় ৭০% মার্কস পাইলে তার বেতন মওকুফ। আমি বিকেএসপিতে একবারই বেতন দিয়েছিলাম ৭ম শ্রেণীতে। বাকি ১২ শ্রেণী পর্যন্ত ফুল ফ্রি তে পড়েছি। আমি বিকেএসপিতে ২০১৩ সালে প্রথম দেশের হয়ে ভারতে খেলতে যাই। এছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ বয়স ভিত্তিক সব খেলায় বিকেএসপির হয়ে অংশগ্রহণ করেছি। আমার কিছু আক্ষেপের জায়গা আছে। আমি খুব চেষ্টা করতাম এবং খুব নিয়মানুবর্তী ছিলাম। আমি বিকেএসপিতে প্রিফেক্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। ৭-১২ শ্রেণী পর্যন্ত খেলাধূলা আর পড়াশুনা ছাড়া অন্যকিছুই ছিলনা আমার জীবনে। আমি মোবাইল ফোন ব্যাবহার শুরু করি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পরে। কিন্তু খেলাধূলায় আমি ভালো করতে পারিনি। যখনই ভালো পারফরম্যান্স থাকে তখন ইন্জুরি চলে আসে। আবার অনেক সময় খেলেও কোচের চোখে পড়তে পারিনি। আমি এই কারণে একজন প্রফেশনাল খেলোয়াড় দাবি করতে লজ্জাও বোধ করি। আমি যখন দ্বাদশ শ্রেণিতে তখন সিন্ধান্ত নেই আমাকে যে করে হোক ক্লাবে খেলতে হবে। আমি তখনকার প্রিন্সিপাল ইমরান রউফ স্যারের সাথে সরাসরি কথা বলি। স্যারকে আমি সব খুলে বলি। তিনি আমাকে চিটাগং লীগ খেলার জন্য ছুটি দিয়েছিলেন। তিনি সব সুযোগ করে দিলেন। আমি খেলতে গেলাম সাথে আমার দুই বন্ধুও ছিল। তখন আমার পারফরম্যান্সে আমি এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, বেস্ট ইলেভেনে থাকব। কিন্তু খেলার দিন দেখলাম আমি ১৮ জনেও নেই। আমি টিম ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমার পজিশনে নারায়ণগঞ্জ এর একজন আছে। তাকে না খেলালে ওরা সবাই চলে যাবে। আমার সেদিন থেকে আর কোন ভাবেই ইচ্ছে করেনি যে আর ফুটবল খেলি।
সামনে বিকল্প পথ ছিল দুইটা। আর্মি অফিসার হওয়া অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া।
যেহেতু রেজাল্ট ভালো ছিলো আর্মিতে পরিক্ষা দিয়েছিলা। আইএসএসবি ফেস করলাম। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ। তারপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। এখানেই থেমে যায় সাইমুনের জাতীয় পর্যায়ে খেলার স্বপ্নের যাত্রা। শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন জীবন।
সাইমুন জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা এবং উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়ে অভ্যন্তরীণ খেলাগুলাতে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আমি সবসময় চিন্তা করতাম , ক্রীড়া নিয়ে আমাকে থাকতে হবে। আমার দ্বারা চাকরি সম্ভব নয়। আমি এমন কিছু করবো যা দ্বারা আমি নিজে উপকৃত হবো, দেশের মানুষ আমাকে চিনবে এবং ক্রীড়া জগতে সহযোগী হতে পারব। তখন আমার মাথায় আসে বাংলাদেশে তো এখনো পর্যন্ত কোন স্পোর্টস ব্রান্ড নাই। আমরা সবাই অন্যদেশের প্রডাক্ট ব্যবহার করি। আমার বন্ধু,বড়-ছোট ভাই ন্যাশনাল দলের খেলোয়াড়। তাদের কাছে পৌঁছানো আমার জন্য করা সহজ যা অন্যদের জন্য অনেক কষ্ট সাধ্য। যে ভাবনা সেই কাজ। ২০২১ সালে আমি মার্কেট রিসার্চ করে নেমে পড়ি। আমার ব্রান্ডের নাম দেই Wearix – The Leading Sports Brand in Bangladesh. যেহেতু আমার দেশের ৭০% মানুষ মধ্যবিত্ত। দামে কম মানে ভালো দিতে হবে। একারণে দুইটা জিনিস মাথায় নিয়ে মোটো দেই -Wear n Win.
আপনি আমার প্রডাক্ট পড়লে দামে জিতবেন, আত্মবিশ্বাস পাবেন, খেলাধূলাতেও জিতবেন-এই চিন্তা করে।আমার কোম্পানির প্রফিটের একটা অংশ আমি খেলোয়াড়দের জন্য ব্যয় করি।
সাইমুন বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার জন্য ভর্তির পর থেকেই পরিকল্পনা করতেন। তিনি বলেন,
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই স্পোর্টস ক্লাব নিয়ে চিন্তা করেছি। সেই ২০২২ সালেই আমি jusportclub.com এর ডোমেন কিনে রেখেছিলাম। যা আমার স্পোর্টস ক্লাব পরিকল্পনার একটি অংশ ছিল। আজ সেই ক্লাবের বাস্তব রূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই দেখতে পাচ্ছে । ক্যাম্পাসে সবচেয়ে আলোচিত নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলাম আমার কোম্পানির স্পন্সর দিয়েই। এছাড়াও আমার ক্যাম্পাস এবং বাইরে আমার কাছে স্পন্সর চেয়ে পায়নি এমন কেউ নাই। আমার সৃষ্টি করা কোম্পানির প্রডাক্ট শুধু দেশের মানুষ পরেছে তা নয়। পাকিস্তান, আফগানিস্তান,ওয়েস্টইন্ডিস এর খেলোয়াড়ও স্বাচ্ছন্দ্যে পরেছে এবং প্রচার করেছে।
ক্রীড়া জগতের সহযোগী ও সেবক হয়েই জীবন কাটাতে চান সাইমুন। তিনি বলেন,
আমি দিন শেষে ক্রীড়া নিয়েই থাকতে চাই।একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটি পারিনি, একজন সংগঠক হিসেবে সেটি করতে চাই। আমি যেসব সমস্যার সম্মূখীন হয়েছি, অন্যরা যাতে না হয় সেটাই আমার লক্ষ্য। আমি ক্রীড়া জগতের সহযোগী হতে চাই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। আশা করি সেই সুযোগটা শিক্ষার্থীরা আমাকে করে দিবে।