কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আয়োজনে ‘জনস্তরে সংবিধান চিন্তা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৩০ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২১:৪০
A+A-
Reset

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের সহযোগী সংগঠন ‘ল ক্লিনিক’ এবং ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড এডুকেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘জনস্তরে সংবিধান চিন্তা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘মতামত প্রকাশের অধিকারের পরিসীমা’।

বৃহস্পতিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মু. আলী মুর্শেদ কাজেম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ আহসান খালিদ। এছাড়া অন্যান্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মু. আবু বকর সিদ্দিক (সোহেল), বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সাবিদিন ইব্রাহিম এবং ‘বাংলাদেশ সোসাইটি ফর চেঞ্জ এ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস’-এর লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নাভিদ নওরোজ শাহ্।

সেমিনারে আলোচকরা বাংলাদেশ সংবিধানের বিভিন্ন দিক এবং ‘বাক-স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করেন। এছাড়া সংবিধানের ফাঁকফোকরগুলো কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড এডুকেশন’-এর পরিচালক মোঃ জহীর উদদীন সোহাগ বলেন, ‘তারুণ্যকে শক্তিতে রূপান্তরের জন্যই আমাদের এই আয়োজন। শুরুতে আমাদের প্লাটফর্মের কাজ অনলাইনে শুরু হলেও, এখন অফলাইনে কার্যক্রম শুরু করেছি। ৫ আগস্টের পর আমরা জনস্তরে সংবিধান চিন্তা বিষয়ক একটি সিরিজ চালু করেছি, যার তৃতীয় পর্ব আজকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আশা করি এই সেমিনারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে সংবিধান নিয়ে ভালো একটা ধারণা জন্ম হবে। নিজের অধিকার এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারবে।’

‘বাংলাদেশ সোসাইটি ফর চেঞ্জ এ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস’-এর লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নাভিদ নওরোজ শাহ্ বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষগুলো খুবই সাদাসিধে। তারা সংবিধান নিয়ে তেমন মাথা ঘামায় না। গুটিকয়েক যারা আইনের সাথে সম্পৃক্ত তারা যখনি সংবিধান নিয়ে কথা বলতে যায় তখন অনেক ফাঁকফোকর ধরা পড়ে। আমরা অনেক সময় বাক-স্বাধীনতার দোহায় দিয়ে অন্যের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে ফেলি। ফলে অনেক সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও লেগে যায়। সে জন্য আমাদের বুঝতে হবে কোনটা আসলে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত, আর কোনটা বাক স্বাধীনতা।’

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক সহযোগী অধ্যাপক সাঈদ হাসান খালিদ বাংলাদেশ সংবিধানের কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও তিনি সংবিধানের কিছু ফাঁকফোকর নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে ‘ফ্রিডম অব স্পিচ’ এর কথা বলা হয়েছে কিন্তু ‘অপিনিয়ন’ এর কথা বলা হয়নি। অর্থাৎ মতামতের স্বাধীনতার কথা বলা হয়নি এবং এই একই অনুচ্ছেদে আবার বলা হয়ছে রাষ্ট্র চাইলে আবার সেই অধিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। তবে তা যুক্তিসঙ্গত কারণে হতে হবে। আবার যুক্তিসঙ্গত কারণ কি তা নির্ধারণের কোনো মানদণ্ড নাই। এর সুযোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার সাধারণ মানুষের বাক-স্বাধীনতা হরণ করে।’

সভাপতি মু. আলী মুর্শেদ কাজেম বলেন, ‘এত সুন্দর একটা প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য আমি ‘ল ক্লিনিক’ এবং ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড এডুকেশন’-কে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি যারা দূর-দূরান্ত থেকে আলোচক হিসেবে এসে আজকের প্রোগ্রামকে সফল করেছে। আমি আশা করি আইন বিভাগের সহযোগিতায় ‘ল ক্লিনিক’ এমন আরো প্রোগ্রাম আয়োজন করবে।’

আপনার পছন্দ হতে পারে