কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘আর্ট এন্ড হেরিটেজ সোসাইটি’র উদ্যোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের হলরুমে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম গালিবের সঞ্চালনায় এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সাধারণ সভাটির এজেন্ডার মধ্যে ছিল— ভ্রমণ কমিটি ঘোষণা, সোসাইটির বিশেষায়িত সম্পাদক নির্বাচন, সোসাইটির লোগো আহ্বান, অর্থনৈতিক প্রতিবেদন পেশ, বিভাগের ল্যাব সংস্কার, বিভাগের ১ যুগ পূর্তি উদ্যাপন এবং সোসাইটির গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব। এসময় শিক্ষার্থীরা গঠনতন্ত্রের পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেন এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের দিক তুলে ধরেন।
এসময় সভায় সংশ্লিষ্ট সোসাইটির সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম তাওহীদ বলেন, ‘এটা বিভাগের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ সভা, যা আমাদের জন্য স্মরণীয়। আমাদের সোসাইটির কাজ শুধু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেওয়া। শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তির দাবিতেও আমরা কাজ করছি। আমরা সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে রাজনীতি-অরাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে বিভাগকে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা আশাবাদী, সমস্যাগুলো সম্ভাবনায় রূপ নিয়ে বিভাগ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।’
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “আজকের এই আয়োজন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও সোসাইটির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আশা করি ভবিষ্যতের কমিটিগুলোও এই ধারা অব্যাহত রাখবে। আমাদের বিভাগে অনেক নিয়ম আছে, শুধু সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, তবে নতুন ক্যাম্পাসে গেলে উন্নতির সম্ভাবনা আরও বাড়বে। শিক্ষকদের প্রতি আস্থা রাখা লাগবে। একসময় এই বিভাগ ব্যাপক পরিচিতি পাবে ও সমৃদ্ধ হবে।’
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. সাদেকুজ্জামান বলেন, ‘চতুর্থ কার্যনির্বাহী কমিটির উদ্যোগে আজকের এই প্রথম সাধারণ সভা আয়োজিত হয়েছে। এই কৃতিত্ব ভিপি মো. সাইফুল ইসলাম তাওহীদ, সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম গালিব এবং পুরো কমিটির। আমি দ্বিতীয়বারের মতো বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছি, চেষ্টা করব বিভাগকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। আমাদের পুরোনো মটো ছিল ‘ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই ফল’ । নতুন মটো হলো ‘আওয়ার গ্র্যাজুয়েট ইজ আওয়ার প্রাইড’। প্রত্নতত্ত্বে চাকরির সুযোগ সীমিত হলেও আমরা নিজেরাই কর্মক্ষেত্র তৈরি করব। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে ক্লাস ও পরীক্ষা। প্রতিটি বিভাগ একটি পরিবার, আর এই পরিবার যেন সফলতা ও সমৃদ্ধি নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’