আব্দুল মুত্তালী নাবিল, জাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) তফসিল ঘোষণার পরও অবাধে প্রবেশ করছে বহিরাগতরা। এতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৫ দিন পার হলেও নিরাপত্তা জোরদারের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকগুলো দিয়ে অবাধে প্রবেশ করছে বহিরাগত ও দর্শনার্থীরা। জাকসু নির্বাচন ঘিরে অন্তত নিরাপদ জোরদার করা দরকার না হলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
উইকেন্ড কোর্স রেখে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না:
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকগুলোতে বহিরাগত প্রবেশে নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছেন। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবার উইকেন্ড কোর্সের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসেন। উইকেন্ড কোর্স চালু রেখে বহিরাগত প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তাছাড়া বহিরাগতদের আটকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফোন দিয়ে তাদের প্রবেশের সুপারিশ করেন। এটা বন্ধ না হলে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।
তারা আরও জানান, তাদেরকে এখনো এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি যে যারা প্রবেশ করবেন তাদের তল্লাশি করবে। যদি প্রশাসন নির্দেশনা দেন তাহলে সেভাবে কাজ করবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পাসের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কথা বললে টুকটাক শোনে। কিন্তু যারা উইকেন্ড কোর্স করে তারা গার্ডদের সাথে খারাপ আচরণ করে। একবার ক্যাম্পাসে ঢুকে ক্লাস শেষে চিপা-চাপায় ঘুরে বেড়ায়। আমরা বহিরাগত প্রবেশ ঠ্যাকাতে এতো পরিশ্রম করি সব বৃথা হয়ে যায়।
আজ শুক্রবার সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, শহীদ মিনার এলাকা, চৌরঙ্গীসহ বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বহিরাগতরা। এদের বেশিরভাগ উঠতি বয়সি তরুণ-তরূণী। অনেকে পরিবার নিয়েও ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের:
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ভূঁঞা নিবির ইনসাইট ঢাকা ডটকমকে বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি জাকসুর তফসিল ঘোষণার পরও অবাধে বহিরাগত প্রবেশ করছে। যা নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় অন্তরায়। প্রশাসন মৌখিক আশ্বাস দিলেও কার্যত তারা ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যা বিশেষ করে আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট দ্রুত বহিরাগত প্রবেশ ঠেকিয়ে, প্রত্যেকটি গেইটে পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাই করে প্রবেশের ব্যবস্থা নিতে দাবি জানাচ্ছি। আশা করি জাকসু নির্বাচনের দিন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে এইটুকু সহযোগিতা করবে।
অবাধে বহিরাগত প্রবেশে উদ্বেগ জানিয়ে আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর সিদ্দিকী সাইমুন বলেন, অন্তত জাকসু নির্বাচনের দিনগুলোতে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সেটা বাস্তবায়ন করা জরুরি। গেইটগুলো দিয়ে প্রবেশের সময় সবাইকে তল্লাশি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তারপর ক্যাম্পাসে ঢোকানে জরুরি। না হলে একটা গোষ্ঠী জাকসু নির্বাচন বানচালে সদা প্রস্তুত রয়েছে। তারা যেকোনো সময় অস্থিতিশীল কিছু ঘটাতে পারে৷
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা আসন্ন জাকসু নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে ল এনফোর্সমেন্ট যারা আছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। যেদিন থেকে জাকসুর প্রচারণা শুরু হবে, সেদিন থেকে বহিরাগত প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে ও প্রক্টরিয়াল টিম মাঠে থাকবে।