খুবি প্রতিনিধি
জুলাই আন্দোলনে তরুণ সাংবাদিকরা অকুতোভয়ে লড়াই করেছেন, অথচ অনেক প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বা সেল্ফ সেন্সরশিপে আশ্রয় নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস) ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকদের অবশ্যই সৎ ও সাহসী হতে হবে, চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে, এস্টাব্লিশমেন্টের বিরুদ্ধেও লিখতে হবে। চ্যালেঞ্জ নিতে না পারলে ভালো সাংবাদিক হওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্ম কোনো অস্ত্র বা বিদেশি সহায়তা ছাড়াই হাসিনার ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদকে পরাজিত করেছে, যা প্রমাণ করে তারা চাইলে যেকোনো কিছু করতে পারে। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা ফিরে এলেও নির্বাচনের পরেই প্রমাণ হবে দেশ সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে কি না। নির্বাচিত সরকার যদি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নেয়, তবে ফ্যাসিবাদ ফের ফিরে আসতে পারে।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে। গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক সমাজের চার স্তম্ভের একটি, আর ফ্যাসিবাদ প্রথম আঘাত হানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যা জুলাই আন্দোলনেও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, আইন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান এবং ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। বক্তব্য দেন জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর শরিফ মোহাম্মদ খান, আমার দেশ পত্রিকার খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন এবং জুলাই আন্দোলনের একজন যোদ্ধা আয়মান আহাদ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুবিসাস সভাপতি আলকামা রমিন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী জারিন প্রভা ও মাহবুবুর রহমান আকাশ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।