চাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব শাখা ছাত্রদলের

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৫২
A+A-
Reset

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের গঠনতন্ত্র নিয়ে প্রশাসনের একপেশে সিদ্ধান্ত, নারীবিদ্বেষী মনোভাব, নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত রোডম্যাপের অনুপস্থিতি ও সাম্প্রতিক ক্যাম্পাস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বেশকিছু অভিযোগ, প্রস্তাব ও দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে চবি শাখা ছাত্রদল।

আজ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চাকসু ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

তিনি বলেন, “গঠনতন্ত্রে চাকসুর সদস্য হওয়ার যোগ্যতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি এবং বয়সসীমা ৩০ বছর নির্ধারণ পূর্ব প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। আমরা এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

চাকসুর সভাপতির পদাধিকারের প্রসঙ্গে নোমান বলেন, “গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপাচার্য পদাধিকার বলে সভাপতি হবেন; প্রয়োজনে তিনি উপ-উপাচার্যকে সভাপতি মনোনীত করতে পারবেন। উপ-উপাচার্য না থাকলে কোনো অধ্যাপককে সভাপতি মনোনীত করতে পারবেন। কিন্তু এ দায়িত্ব অস্থায়ী নাকি পূর্ণকালীন— তা গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাই।

‘গঠনতন্ত্রে প্রশাসনের নারীবিদ্বেষী মনোভাব স্পষ্ট’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গঠনতন্ত্রের ৭(ক) ধারায় দপ্তর সম্পাদক পদ কেবল পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এটি নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী। সিদ্ধান্তটি পুনঃবিবেচনা করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”

গঠনতন্ত্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের কার্যপরিধির মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সংযুক্তির প্রস্তাব তুলে ধরে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ উপেক্ষিত হয়। গঠনতন্ত্রের ধারা ১২-এ স্বাস্থ্য সম্পাদক কার্যপরিধিতে খাদ্য নিরাপত্তা যুক্ত করা উচিত।”

নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত রোডম্যাপ না থাকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। “গঠনতন্ত্রে (ধারা-১০) কমিশন গঠন প্রক্রিয়া ও কার্যপরিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা নেই। অথচ জাকসু ও রাকসুর গঠনতন্ত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ উপেক্ষিত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”

লিখিত বক্তব্যে ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়— হলে মিল সিস্টেম চালু, নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ, গুপ্ত হামলায় প্রশাসনের নীরবতা, উপাচার্যের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিচার না হওয়া, শ্রেণিকক্ষকে রাজনৈতিক কার্যালয় বানানো, স্বৈরাচার আমলের দোষীদের বিচারে অনীহা এবং সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।

এসব প্রস্তাব প্রশাসন গ্রহণ না করা হলে ছাত্রদল চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন বলেন, “আমরা প্রশাসনকে যৌক্তিক কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবো, নির্বাচনে অংশ নেবো কি, নেবো না।”

এ সময় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়সহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

চবি/মো.হাসিবুর রহমান

আপনার পছন্দ হতে পারে