হাবিপ্রবিতে কর্মবিরতি ঘিরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মচারীদের উত্তেজনা

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১৮
A+A-
Reset

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) প্রশাসনিক অস্থিরতা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। কর্মচারী কর্তৃক কর্মকর্তাদের চলমান কর্মবিরতির ব্যানার ছেড়াকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মুখোমুখি অফিসার্স ক্লাব ও জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদ।

গত ৯ জুলাই ২০২৫ থেকে হাবিপ্রবির কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনিক পদে শিক্ষকের পরিবর্তে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব পদে কর্মকর্তাদের নিয়োগ হওয়া উচিত। তারা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণায় বিঘ্ন ঘটছে।

১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে অফিসার্স ফোরামের কর্মসূচির সময় প্রশাসনিক ভবনের সিঁড়িতে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে মোঃ সাইফুল ইসলাম (মালি, রেজিস্ট্রার কার্যালয়)-এর বিরুদ্ধে। সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোঃ মজিবর রহমানের উপস্থিতিতে তাকে চিহ্নিত করা হয় এবং কর্মকর্তারা তাকে প্রশাসনের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে মোঃ জিল্লুর রহমান (অফিস সহায়ক) নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মচারী বাধা দেন ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। অফিসার্স ফোরামের অভিযোগ, মোঃ একরামুল হকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

একই ঘটনার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আজ (১২ আগষ্ট) জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কর্মচারীরা ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোঃ জিল্লুর রহমান ও মোঃ সাইফুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। তাদের দাবি, ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ব্যানার সরিয়ে ফেলার কথা স্বীকার করে রেজিস্ট্রার অফিসের মালি সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যানার থাকলেও কর্মকর্তারা সেখানে আন্দোলন করছিলেন না। সবাই নিজ নিজ অফিসে ছিলেন। তাদের কর্মবিরতির ফলে আমাদের অনেক অফিসিয়াল কাজ পোস্টিং সব আটকে আছে এদিকে তারা তাদের প্রয়োজন মত কর্মবিরতি পালন করছেন আবার কাজ করছেন। এই ক্ষোভ থেকেই আমি ব্যানার সরিয়েছি। এর জন্য আমি দুঃখিত কিন্তু তারা আমার গায়ে হাত দিয়েছে, আমাকে টানা হেচড়া করেছে। আমি যদি কোনো অন্যায় করি প্রশাসনিক ভাবে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে আমার সাথে খারাপ আচরণ ও আমাকে হেনস্থা কেনো করবে। আমার গায়ে হাত তোলা ও আমাকে হেনস্তা করার বিচার চাই।

জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম লেবু বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। পরবর্তীতে জানতে পারি আমাদের একজন কর্মচারী সাইফুল ইসলাম একটি ব্যানার সরিয়ে ফেলেছেন। এজন্য কর্মকর্তারা তাকে টেনেহিঁচড়ে উপাচার্য মহোদয়ের অফিসে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং মারধরের কথাও শুনেছি। আমাদের আরেক কর্মচারী জিল্লু তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেছে, তাকেও অবজ্ঞা করা হয়েছে। কর্মকর্তারা শিক্ষিত মানুষ, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা কম শিক্ষিত, ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। সাইফুলকে শাস্তি দেওয়ার আগে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত দেখার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা না করে আমাদের কর্মচারীকে মারধর করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামছুজ্জোহা বলেন, কর্মকর্তারা শান্তিপূর্ণ ভাবেই তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন করছে। আন্দোলনের মাঝেও তারা প্রশাসনিক এবং একাডেমিক কাজের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না। কর্মচারীরা ব্যানার ছিঁড়ে কাজটি ঠিক করেনি। কর্মকর্তারা তো তাদের বস, তাদের সাথে কর্মচারীদের খারাপ ব্যবহার মোটেও কাম্য নয়। আমি কোনো কর্মচারীকে মারতে দেখিনি, উল্টো কর্মচারীরাই কর্মকর্তাদের ধাক্কাধাক্কি করেছে।

হাবিপ্রবি/সাগর চন্দ্র

আপনার পছন্দ হতে পারে