জাবিতে রাজাকারদের কুশপুত্তলিকা দাহ, মশাল মিছিল

by অনলাইন ডেস্ক
Site Favicon প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৫৪
A+A-
Reset

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার-আলবদর, গণহত্যাকারীদের ছবি প্রদর্শনীর প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও রাজাকারদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

আজ বুধবার রাত দশটার দিকে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে মশাল মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি ছাত্রদের সাতটি হল সংলগ্ন রাস্তা ঘুরে আবার বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে রাজাকার লেখা একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা।
প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগানসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দেন।

মশাল মিছিল শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশটিতে সঞ্চালনা করেন ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া।
সমাবেশে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আ র ক রাসেল বলেন, যে রাজাকাররা বাংলাদেশের জাতির পতাকা খামচে ধরেছিল সেই রাজাকারদের ছবি গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির কর্তৃক প্রদর্শনী করা হয়েছে। রাজাকারদের ছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শিত হওয়ার মতো কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।

আমরা দেখেছি, ৫ আগষ্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকার বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হত্যাকরাসহ যাকে তাকে শিবির ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করেছে। আমরা সেসব নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কারণ আমরা মনে করি, প্রত্যেক মজলুম তার অধিকারের পক্ষে কথা বলবে। কিন্তু আমরা বলতে চাই না কোনো রাজাকার এদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে। ৫ আগষ্টের পর থেকে যখনই আমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে চেয়েছি তখনই আমাদেরকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু  মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা মানেই আওয়ামী লীগের দোসর নয়। মুক্তিযুদ্ধ এদেশের জ্বলন্ত ফ্যাক্ট, এই ফ্যাক্টকে ধারণ করেই এদেশে রাজনীতি করতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের একাংশের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজাকার কারা যারা ১৯৭১ সালে একটি স্বাধীনতা-বিরোধী স্বেচ্ছাসেবী জোট। চরম আওয়ামী বিদ্বেষ মানেই রাজাকার হিসেবে গণ্য করার কোনো মানে নেই। জুলাই আন্দোলনকারীকে রাজাকার হিসেবে গণ্য করার কোনো কারণ নেই। খুব প্র্যাকটিসিং মুসলিমকেও রাজাকার হিসেবে গণ্য করার কোনো কারণ নেই। আমরা বিশ্বাস করি, যারা ১৯৭১ সালে নিজেদেরকে পাকিস্তানের সহায়ক ফোর্স হিসেবে গণ্য করেছে, বাংলাদেশে যত গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ ঘটেছে, তারা নিরঙ্কুশভাবে সহযোগিতা করেছে আমরা তাদের রাজাকার হিসেবে ঘোষণা করছি।

আপনার পছন্দ হতে পারে